দেশজুড়ে

সড়কের ধারের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইউনিয়ন আ.লীগের নেতারা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর কচুবাড়ি বাজার এলাকায় রাস্তার পাশের গাছ কেটে হরিলুট চলছে। ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের যোগসাজশে দু’সপ্তাহ ধরে শতাধিকের বেশি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কচুবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আ: কাদেরের নেতৃত্বে বাজারের পাশের সড়কের শতাধিক গাছ কাটা হচ্ছে। গাছ কাটার টাকার ভাগ ইউপি চেয়ারম্যানও নিচ্ছে। তাই প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি খেতে হচ্ছে।

গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আাউলিয়াপুর কচুবাড়ি এলাকার বাজারের পূর্ব পাশের ৮-৯টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটচ্ছেন কয়েকজন শ্রমিক। এসময় গাছ কাটা শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ওহাব ও শওকত গাছগুলো কিনে নিয়েছে। তাদের নির্দেশে গাছ কাটা হচ্ছে। গত সপ্তাহে শতাধিক গাছ কেটেছি আমরা।

এ ব্যাপারে ওহাব ও শওকত জানান, ইউনিয়ন পরিষদের জমিতে রাস্তার পাশে কচুবাড়ি এলাকার দিন মজুর জমির আলী গাছগুলো লাগিয়ে ছিলেন কয়েক বছর আগে। অভাবের কারণে চেয়ারম্যানের মৌখিক নির্দেশে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২৫টি গাছ আমাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আর বাকি গাছগুলো ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আ: কাদেরের নির্দেশে কাটা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আ: কাদের জানান, জমির আলীকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে গাছগুলো নেয়া হয়েছে। শতাধিক গাছ কর্তনের কথা জানতে চাইলে, ওহাবেব কাছে এ প্রতিবেদককে গাড়ির তেল খরচের টাকা নিয়ে যেতে বলেন তারা।

জমির আলী জানান, আমি গাছগুলো লাগিয়ে ছিলাম। অভাবের কারণে চেয়ারম্যানের কাছে কয়েকটি কাটার অনুমতি চেয়েছিলাম। আমাকে আওয়ামী লীগের নেতারা ২০ হাজার টাকা এনে দিয়ে ছিল শুধু। এখন শুনতেছি শতাধিক গাছ বিক্রি হয়ে গেছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আউলিয়াপুর ইউপি চেয়াম্যান আতিকুর রহমান নজরুল জানান, জমির আলী রাস্তার ধার লিজ নিয়ে গাছ রোপন করেছিল। কয়েকদিন আগে জমির আলী আমাকে রাস্তার পাশে হেলে পড়া দুটি গাছ কাটার কথা বলেছিল। আমি কাটার অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু শতাধিক গাছ কাটার বিষয়টি আমি অবগত নই। বন বিভাগের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া রাস্তার গাছ কর্তন করা যাবে না বলে তিনি জানান।

মো: রবিউল এহসান রিপন/এমএএস/পিআর