দেশজুড়ে

শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের আড়িগাঁও বাজার সংলগ্ন আবু তালেব মাস্টার হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষকরা চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। গত মঙ্গলবার সপ্তম শ্রেণির ইংরেজি ক্লাস নেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবু তালেব মাস্টার হাই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক ইকবাল হোসেন।

স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ইংরেজি বিষয়ে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন আবু তালেব মাস্টার হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র। অনিল চন্দ্র অসৎ উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। তখন ওই ছাত্রী কেঁদে উঠেন এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষদেরকে বিষয়টি বলেন।

বিষয়টি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মিলে নিজেদের মধ্যে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং ওইদিন আবু তালেব মাস্টার হাই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক ইকবাল হোসেনের কাছে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেন।

তবে সাংবাদিকরা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি তারা। ওই ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজ্ঞানের শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়ার ব্যাপারে আমরা চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। তারা হলেন, স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক ফাহিমা আক্তার, সারোয়ার জাহান, হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক নাজমা ও সারমিন জাহান।

তদন্ত কমিটি রিপোর্ট আমার কাছে জমা দিয়েছেন। তদন্ত রিপোর্টে তেমন কিছু সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে স্যার  মেয়েটির হাত ধরেছেন। এটা তেমন কোনো বিষয় না।

আবু তালেব মাস্টার হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীরা জানায়, অনিল চন্দ্র স্যারে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আছেন। স্যারটা তেমন ভালো না। ২০০৯ সালেও দুইটি মেয়েকে গায়ে হাত দিয়েছিলেন। শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। তাদের এই স্বভাব মানায় না। তার বিচার হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ছাত্রীর মা বলেন, আমরা গরিব। সামনে মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। এ বিষয়ে কি আমি বলতে পারি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র বলেন, আমি সপ্তম শ্রেণির ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছিলাম। ওই ক্লাসের ছোট একটি মেয়ে কি যেন বলছিল। আমি কাছে গিয়ে হাত ধরে বলছি এদিকে এসে বস এবং ক্লাস শেষ করে চলে আসি। পরে সহকারীদের কাছে মেয়েটা কান্না করে ওই কথা বলে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বিয়টি আমার কাছে কেউ জানায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস