শরীয়তপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা মিথুন ঢালী ও জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম মিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলা ও জাজিরা উপজেলায় অবস্থিত গঙ্গানগর বাজারে থেমে থেমে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আহত জয়নগর ইউনিয়নের উত্তর কেবলনগর গ্রামের মান্নান কাজী (৬০), দিপু কাজী (৩৫), সায়েদ কাজী (৪২), সাহানাজ কাজী (৪২), জনু চৌকিদার (৭০) এর নাম পাওয়া গেছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত একজন আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা মিথুন ঢালী ও জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম মিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এরই সূত্র ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে দুই গ্রুপের লোকজন প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে দুই গ্রুপের অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দিপু কাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।এ ব্যাপারে জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাজমুল বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ১১ জন হসপিটালে আসে। তাদের শরীরের বিভিন্ন যায়গায় গুলি লেগেছে। ১০ জন আশঙ্কামুক্ত হলেও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে।এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা মিথুন ঢালী বলেন, কাজী আমিনুল ইসলাম মিন্টুর হুকুমে সকালে তার লোকজন আমার লোকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার লোকজন আহত হয়েছে।জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইলাম বলেন, মিথুন ঢালী ও কাজী আমিনুল ইসলাম মিন্টুর লোকজনদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস