কুড়িগ্রামে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মেরে দুই শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। শিক্ষকের লাথিতে আহত শিক্ষার্থী নিশাদ আহমেদ নাঈমকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনা ঘটে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় হলোখানা খয়ের উল্ল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান পরীক্ষা চলাকালীন কোলাহল করার অপরাধে এই কাণ্ড ঘটান।
এখন চলছে আপসের তোড়জোড়। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এটি মীমাংসায় মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে নির্যাতিত ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী আঁখি তারার পরিবারের সঙ্গে আপস করে দিয়েছেন স্থানীয় মেম্বার রফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার রায় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় হলোখানা খয়ের উল্ল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী আখিঁ তারাকে রোববার বিকেলে ক্লাসে কোলাহল করার অপরাধে চড়-থাপ্পড় দেন সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান।
এরপর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাদ আহমেদ নাঈমকে বাংলা পরীক্ষা শেষে রুম থেকে তড়িগড়ি করে বের হওয়ার সময় প্রচণ্ড জোরে লাথি দেন ওই শিক্ষক।
এতে ছিটকে পড়েন নাঈম। এরপর সে ঘটনাস্থলে বমি করে দেয়। পরে নাঈমকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিশাদের মা নাজমুন্নাহার বলেন, আমার ছেলে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে এসে বমি করলে তাকে স্থানীয় ডাক্তারকে দেখাই। পরে ডাক্তারের পরামর্শে রাতে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিশাদের বাবা আব্দুল জলিল বলেন, আমি চায়ের দোকানের ব্যবসা করি। ছেলের খোঁজখবর নেবার পারি না। শিক্ষক হয়া যদি এমন অমানবিক কাজ করে, তাহলে কার কাছে বিচার দিমু।
অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল হাসান শিক্ষার্থী আখিঁ তারাকে চড়-থাপ্পড় মারার কথা স্বীকার করলেও নাঈমকে লাথি মারার কথা অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা অযাচিতভাবে বারান্দায় ভিড় করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় তাদের সরাতে ধাওয়া দেই। এতে কেউ আহত হলেও হতে পারে। স্কুল চলাকালীন সময়ে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আসেনি।
প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার রায় বলেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে কেউ নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ দেয়নি। রাত ৮টায় অভিযোগ পেয়েই অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যাই। সে এখন ভালো আছে। আর আহত আখিঁ তারার পরিবারের সঙ্গে আপস হয়ে গেছে। নাঈমের পরিবারের সঙ্গে আপস মীমাংসার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ছুটিতে আছেন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়া হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যাপারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজল কুমার সরকার সোমবার ওই স্কুল পরিদর্শন করে এসে বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের চর-থাপ্পড় মারার সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দ্বন্দ্বে কারণে ছোট ঘটনা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাজমুল হোসেন/এএম/এমএস