পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, বাঁধ ভাঙার কারণে নয়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে হাওরের ফসল প্লাবিত হয়েছে। আগামীতে হাওর উন্নয়নে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জের সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আগাম বন্যা রোধ করতে হাওর এলাকায় নদী খনন করা হবে। তবে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল রোধ করা সম্ভব নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কেউ যদি হাওররক্ষা বাঁধ নিয়ে অনিয়ম- দুর্নীতি করে থাকে তাহলে তদন্ত স্বাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী।
এসময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অকাল বন্যায় বাঁধ ভেঙে কোথাও কোথাও বাঁধ না হওয়ায় গত ৩০ মার্চ থেকে একের পর এক হাওর তলিয়ে যাওয়ার পর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার লাখ লাখ বোরো চাষি নিঃস্ব হয়ে যায়। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর পক্ষ থেকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণার দাবি করা হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে হাওরবাসীকে বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জেলায় শতভাগ ফসলহানি হলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে বার বার দাবি করা হচ্ছে ক্ষতির পরিমাণ ৯০ ভাগ। এছাড়া বোরো ফসল ডুবে যাওয়ার পর সেখানে শুরু হয় মাছ, হাঁস ও অন্যান্য জলজ প্রাণির মড়ক। ফলে বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরা নিষিদ্ধের পাশাপাশি পানিতে চুন ফেলে বিষক্রিয়া কাটানোর চেষ্টা করা হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে।
রাজু আহমেদ রমজান/এমএএস/পিআর