দেশজুড়ে

মির্জাপুরের একটি স্কুলে জুতা নিষিদ্ধ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো সদরের বাইমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত ১৭ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে জুতা পরে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশে নিষেধ রয়েছে।

এ নিষেধাজ্ঞা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বিদ্যালয়ে কর্মরত সব শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অভিভাবক ও পরিদর্শনে আসা অতিথিদের জন্যও এই নিয়মটি প্রযোজ্য বলে বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

২০০০ সাল থেকে জুতা ছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছে। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সব মৌসুমে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনের সিঁড়িতে সারিবদ্ধভাবে জুতা রেখে ক্লাসে প্রবেশ করে। কেউ কারও জুতা নেয়া তো দূরের কথা, সরিয়েও রাখে না। অবশ্য তীব্র ঠান্ডার সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে মোজা ব্যবহার করে। ব্যতিক্রমী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ফলাফলেও অনেক ভালো।

গত বছর শতভাগ পাসসহ ৩৩ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর আগে ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শতভাগ শিক্ষার্থী প্রথম স্থান লাভ করে।

২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৯৮ থেকে শতভাগ বৃত্তি এবং শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলের দিক থেকে বিদ্যালয়টি এ উপজেলায় তো বটেই, টাঙ্গাইল জেলায়ও কয়েকবার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা বেগম জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হিমেল, ফাহিমা, ইস্তি, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহাদ, মিম, রাফি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা, রিহা ও ফিজত জানায়, জুতা রেখে ক্লাসে যাওয়ার মজাটাই আলাদা। কারণ ক্লাসে জুতার শব্দ হয় না। ধুলোবালি কম হয়। পরিবেশ ভালো থাকে। এতে সবাই সুস্থ থাকতে পারি।

অভিভাবক আবু রায়হান সিদ্দিকী ও মো. জসিম শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ধুলোবালিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। জুতা ছাড়া ক্লাসে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো থাকার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সুস্থ মনোভাব নিয়ে ক্লাস করতে পারছে বলে তারা মনে করেন।

শ্রেণি কক্ষে জুতা নিষিদ্ধ কেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নির্মল রাখার জন্যই ২০০০ সাল থেকে শ্রেণিকক্ষে এ নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ধুলোবালি মুক্তই থাকছে না, সেই সঙ্গে অনেক রোগবালাই মুক্তও থাকছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান মাস্টারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গত বছর বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসে ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া এটি জাতীয় মডেল হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এমএএস/জেআইএম