রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে তিন মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে অবস্থিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি এটি। শনিবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এই হ্রদে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটির ব্যবস্থাপক নৌবাহিনীর কমান্ডার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চলতি প্রজনন মৌসুমে হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছরের মতো এবারও এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি হ্রদে ছাড়া হবে কার্পজাতীয় মাছের পোনা।
তিনি আরও জানান, মাছ ধরা বন্ধকালীন জেলেদের মাঝে ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হবে। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে তিন মাসের জন্য কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ শিকার, আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদেশ কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মৎস্য কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) পাশাপাশি নৌ-পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
সূত্র জানায়, বন্ধের সময়ে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। অভিযানে অবৈধ মাছ শিকারের দায়ে কোনো জাল আটক করা হলে সেগুলো নিলামে না দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত দেয়া আছে।
এছাড়া বন্ধ সময়ে হ্রদে কারেন্ট জাল, কাথা জাল, বেড়া জাল, মশারি জাল এবং ফাঁস জালসহ কোনো কিছু দিয়ে মাছ ধরা যাবে না। পাশাপাশি হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে রাঙামাটি সদরের ফিশারিঘাট, জেলা পরিষদঘাট, ডিসি বাংলোঘাট, লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাইসহ সুবিধাজনক জায়গায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। হ্রদ এলাকার ছয়টি মৎস্য অভয়াশ্রমে সব মৌসুমে মাছ শিকার ও আহরণ বন্ধ থাকবে।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/পিআর