দেশজুড়ে

‘বাঁচতে অইলে কাম কইরাই খাওয়া লাগবে’

‘যে গরম পড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে জানডা ফাইড্ডা যায়। কিন্তু সংসারের দিকে তাকালে বসে থাকার উপায় নেই। কামে নামা লাগবেই। সবাইরে নিয়ে বাঁচতে অইলে কাম কইরাই খাওয়া লাগবে।’

ঝালকাঠির আড়দ্দারপট্টিস্থ ডাকঘাটা এলাকায় আব্দুল বারেক নামের এক শ্রমিক জাগো নিউজকে এ কথা বলেন।

তিনি জানান, তার পাঁচজনের সংসার। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি একাই। সংসারে আছে মা, স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া ২ সন্তান। বৃদ্ধ মা-ছোট বাচ্চাদের মুখের দিকে আর ঘরে বসে থাকতে পারেন না তিনি।

ঝালকাঠির হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে অবহেলা, বঞ্চনা এবং বৈষম্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহাজনদের অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের ব্যাপারে অভিযোগ তোলেন আব্দুল বারেকসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক। মজুরি বকেয়া এবং অশোভন আচরণের অভিযোগটিই বেশি দেন তারা।

ঝালকাঠি পৌর কাউন্সিলর ও হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হুমায়ুন কবীর খান জানান, শ্রমিকরা সব সময়ই মহাজনদের কাছে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। প্রতি বছরই পণ্যের বাজার দর বাড়ে। কিন্তু শ্রমের মূল্য বাড়ে না। তিন বছর পর বাজার দরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হয়। ছয় বছর পরে মাস তিনেক আগে ৩০% মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন করা হয়। ব্যবসায়ীরা এ দাবী মানতে না চাইলেও শ্রমিক বান্ধব নেতা ও আমাদের অভিভাবক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয় আমাদের ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ১৮% মজুরি বৃদ্ধি করেন।

হুমায়ুন কবীর আরও জানান, ঝালকাঠিতে লবণ ও ময়দাসহ ২০টি কারখানা (মিল) আছে। এছাড়াও আড়দ্দারী ব্যবসায়ীদের মালামাল উঠা-নামা, সবমিলিয়ে দেড় হাজারের মতো শ্রমিক আছে। শ্রমিকদের উৎসব ভাতা হিসেবে বাংলা নববর্ষে লুঙ্গি আর ঈদুল ফিতরে বোনাস দেয়া হয়। এছাড়া তাদের আর বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না। এর মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছেন ৩০/৩৫ জন। তারা প্যাকেটজাতকরণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। সবমিলিয়ে শ্রমিকরা বিলাসিতা না করতে পারলেও খেয়ে পরে ভালো আছেন বলে দাবি করেন শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবীর খান।

আতিকুর রহমান/আরএআর/জেআইএম