দেশজুড়ে

সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা চান ঝিনাইদহের ফুলচাষিরা

প্রতি বছরে সার ও বীজের দাম বৃদ্ধি এবং বছরের বিশেষ সময়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে এলসির মাধ্যমে ফুল নিয়ে এসে দেশি ফুলের বাজার মূল্য কমিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন ঝিনাইদহের ফুল চাষিরা। নির্দিষ্ট বাজার না থাকাসহ সম্ভাবনাময় ও অর্থকারী ফুলচাষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দাবি করেছেন তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলার একতারপুর গ্রামের ফুল চাষি তজিবর রহমান জানান, প্রতিদিন আমার গ্রাম থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারে ফুল নিয়ে যেতে হয়।

তিনি জানান, ফুল চাষে যেমন লাভ আছে তেমনি লসও আছে। সারের দাম ১৭ টাকা থেকে এখন ৩৫ টাকা হয়েছে। সরকার আমাদের দিকে তাকায় না।

লাউতলা গ্রামের চাষি মো. আলাউদ্দিন জানান, বীজ আমাদের সব সময় ভারত থেকে নিয়ে আসতে হয়। সরকার একেবারেই ফুল চাষিদের থেকে বিমুখ। ইচ্ছে করলে সরকার আমাদের কম দামে বীজ সরবরাহ করতে পারে।

বড় ঘিঘাটি গ্রামের সাহেব আলী জানান, বছরের বিশেষ সময়ে যেমন ভ্যালেনটাইন ডে, পহেলা বৈশাখ, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে, বিয়ের মৌসুমে যখন ফুল ব্যবসার আসল সময় তখন এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা এলসি খুলে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ফুল নিয়ে আসেন। এতে করে আমাদের ফুল ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহে এ বছরও ২০৮ হেক্টর জমিতে গাঁদা, রজনীগন্ধা ও গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহ মো. আকরামুল হক জানান, আমরা সব বিষয়েই সচেষ্ট আছি। বর্তমানে চেষ্টা করছি এলাকাভিত্তিক ফুলের বাজার তৈরি করার। যেখানে গ্রামের ফুল চাষিরা এক জোট হবে এবং বাজার মনিটরিং করে নিজেদের ফুল নিজেরাই বিক্রি করবে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএআর/জেআইএম