মে দিবসের ছুটিও দিতে নারাজ ঈশ্বরদীর একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। ঈশ্বরদী স্পিনিং মিলস লিমিটেড নামের এই কারখানার শ্রমিকদের ভাগ্যে জোটেনি মে দিবসের ছুটি।
‘কাজে না এলে চাকরিচ্যুত করা হবে’ কর্তৃপক্ষের বেধে দেয়া এই হুমকির কারণে ওই কারখানার তিন শতাধিক শ্রমিক মহান মে দিবসের ছুটিতেও কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল (০১ মে) সোমবার ঈশ্বরদীর ঢুলটি এলাকার ঈশ্বরদী স্পিনিং মিলস লিমিটেড নামের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, মে দিবসের ছুটির কথা জেনেও স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল মতিন মন্ডলের হুমকিতে তারা কাজে আসতে বাধ্য হয়েছেন। জেনারেল ম্যানেজার মে দিবসের আগের দিন রোববার কারখানায় এসে তাদের মে দিবসেও কাজ করার নির্দেশ দেন।
খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে সরেজমিন ওই স্পিনিং মিলের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত নারী শ্রমিক মে দিবসের দিনেও প্রতিদিনের মতো কাজ করছেন। তাদের চোখে-মুখে ক্ষোভ দেখা গেলেও তা প্রকাশ কিংবা প্রতিবাদ করতে পারেনি চাকরি হারানোর ভয়ে।
কারখানা ঘুরে দেখার সময় গেটের বাইরে অবস্থান নেয়া নারী শ্রমিকরা বলেন, আমরা মে দিবসের ছুটির কথা কর্তৃপক্ষকে জানালে জিএম সাহেব আমাদের সাফ সাফ বলে দেন মে দিবস-টিবস কিছু বুঝি না। কাজে এলে চাকরি থাকবে, না এলে বেতন না দিয়েই চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে।
জিএমের এই হুমকির কারণে বাধ্য হয়ে আমরা কাজে এসেছি। অথচ ঈশ্বরদী ইপিজেডসহ বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিকরা মে দিবসের ছুটি ভোগ করছেন, তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করলেও মনে প্রচণ্ড কষ্ট নিয়ে আমাদের বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
সাংবাদিকদের কাছে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিলে চাকরি চলে যেতে পারে এই ভয়ে ওই স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তারা বলেন, নতুন জিএম আব্দুল মতিন মন্ডল এই মিলে যোগদানের পর থেকে তিনি শ্রমিকদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট ৮ ঘণ্টার পরও ৩-৪ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে জিএম আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, এই স্পিনিং মিলে প্রতিদিন ৩ শিফটে তিন শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। কয়েকদিন আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মিলে ৪ দিন কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কাছে ছুটি পাওনা হয়ে যায়। সেই ছুটি এবং মিলের লোকসান পুষিয়ে নিতে মিলের মালিক নুরুল ইসলাম খানের নির্দেশে মে দিবসে তাদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। এ জন্য তাদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ও একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে মে দিবস কাজে যোগদানের জন্য শ্রমিকদের হুমকি নয়, অনুরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. শাকিল মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, মহান মে দিবসে যেখানে সারা বিশ্বের শ্রমিকরা ছুটি ভোগ করেন সেখানে ঈশ্বরদী স্পিনিং মিলে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করার বিষয়টি দুঃখজনক।
আলাউদ্দিন আহমেদ/এএম/আরআইপি