দেশজুড়ে

এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পালাল প্রকৌশলী ও ঠিকাদার

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে রাতের আধারে চলছে সেতু নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রিজের কাজে অনিয়ম দেখতে পেয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিক ও এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। তিনি এলজিইডির কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানান। নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারের শাস্তি ও সেতুর কাজ পুনরায় করায় ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রংপুর ডিভিশন রুরাল ইনফেকশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের থানাঘাট এলাকায় ফুলকুমর নদের ওপর ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুর কাজ চলছে। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ১১ লাখ ১৪ হাজার ৬০ টাকা। এরমধ্যে এক কোটি ৬৩ লাখ চার হাজার টাকা চুক্তির টেন্ডারে কুড়িগ্রামের উজ্জল কুমার দে নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ করছে। বর্তমানে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা ওয়াহেদুজ্জামান। এ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে পাইলিংয়ের কাজ করা হলে কাজ নিম্নমানের অভিযোগ তোলে স্থানীয়রা। পরে ভোরে এসে তারা দেখতে পায় ৮১ ফুট পাইলিং হওয়ার কথা। কিন্তু রাতের আঁধারে ৮১ ফিটের গর্তে ৩টি রডের খাঁচা ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেখানে ৩০ ফিট উচ্চতার একটি রডের খাঁচা ফেলানো হয়। খাঁচাতে সিমেন্ট ব্যবহার না করে শুধু বালু আর পাথর দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা হয় মাত্র ছয় ফিট।বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা কাজে বাধা দেয়। পরে কাজ ফেলে পালিয়ে যায় শ্রমিক ও এলজিইডির উপ-প্রকৌশলী মোবাইদুল ইসলাম। পরে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান নুরন্নবী চৌধুরী খোকন সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা তাকে ঘিয়ে এসব অভিযোগ তোলেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান বিষয়টি এলজিইডির কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানালে নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিনে যান। এর আগে কাজ বন্ধ করে পালিয়ে যায় শ্রমিক এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারের লোকজন পালিয়ে যায়।ব্রিজের পাইলিং কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রহিমসাদু ব্রিজের পাইলিংয়ের কাজে নিম্নমানের কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের যেভাবে কাজ করার জন্য ঠিকাদার নির্দেশনা দিয়েছে, সেভাবে আমরা কাজ করেছি। এর আগে আরও ১৭টি পাইলিংয়ের কাজ করা হয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী, আয়নাল হক বলেন, আমাদের থানাঘাট ফুলকুমরের ওপর একটি ব্রিজের কাজ চলছে। এখানে ব্রিজের কাজের জন্য কোনো সাইনবোর্ড নেই। ঠিকাদারের প্রতিনিধি ওয়াহেদুজ্জামান দলীয় প্রভাবে এলজিইডি’র অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্রিজের নিম্নমানের কাজ করছেন তার খেয়াল খুশি মতো। তারা রাতে কাজ করেন। আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে একটি পাইলিংয়ের কাজ ১০ মিনিটে শেষ করেন। স্থানীয় আজিজুল হক, ইমদাদুল, শাহিন আলম, শরিফ আরও অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার আর এলজিইডি’র কর্মকর্তারা মিলে যে ব্রিজ তৈরি করছে তাতে আমাদের উপকার না ভবিষ্যতে এই ব্রিজ মরণ ফাঁদে পরিণত হবে যাতায়াত করা মানুষের কাছে। ঠিকাদারের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ব্রিজর কাজ ঠিকই চলছিল। কিছু লোক সমস্যাটা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনার পর তথ্য জানতে উপজেলা এলজিইডি অফিসে গেলে তথ্য দিতে গরিমসি করেন তারা। দায়িত্বরত উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী মোবাইদুল ইসলাম গা-ঢাকা দিয়েছেন। তার সাথে কথা বলা যায়নি।  এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী এলজিইডির প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান বলেন, ঠিকাদার চুরি করতে গেছে ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া। তাহলে তো এমন হবে। কাজ একটু কমবেশি হয়। তাই বলে এতো চুরি করলে তো সমস্যা। তাদের প্রভাব আছে সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতের আঁধারে কাজ করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসেছেন তিনি পদক্ষেপ নেবেন।এলজিইডির কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সেতুর কাজ চলবে। উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী খোকন বলেন, উন্নয়নকাজে ঠিকাদারদের এরকম করা উচিত নয়। এক্সিয়েন মহোদয় এসেছেন। তিনি কথা দিয়েছেন অনিয়মে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেবেন। তবে ব্রিজের কাজ যাতে বন্ধ না হয় আমরা সেটাই চাই।নাজমুল হোসাইন/এএম