কালবৈশাখীর মতো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারকে সতর্কতা অবলম্বন ও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজনীতিক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ বিশিষ্টজনেরা। তারা যাত্রী ভোগান্তি লাঘব ও আসন্ন ঈদুল ফিতরে নিরাপদ নৌ চলাচলের স্বার্থে ১০টি জরুরি সুপারিশ উত্থাপন করেছেন।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তারা এই পরামর্শ দেন। পুরান পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে ‘চলমান দুর্যোগ মৌসুম ও বিদ্যমান নৌপরিবহন ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। এতে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাসহ নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থা ঝুঁঁকিপূর্ণ। এজন্য কালবৈশাখীর মতো দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমে নৌ নিরাপত্তার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া দরকার।
জাতীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনজুরুল আহসান খান বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের কুপ্রভাবে গ্রীষ্মকালেই শুরু হয়েছে প্রবল বর্ষণ। সেই সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থানে প্রলয়ংকরী ঝড় হচ্ছে, অনেক এলাকায় বন্যাও দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসন্ন ঈদে এই ঝুঁঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে অারও আলোচনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সিটিজেনস রাইট্স মুভমেন্টের মহাসচিব তুসার রেহমান, যাত্রী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল এবং নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জিব বিশ্বাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জসি সিকদার, প্রমুখ।
এফএইচএস/জেডএ/পিআর