দোকান মালিকের ভাগ্নির সঙ্গে প্রেমের কারণেই খুন হয়েছে রনি। এমনটাই দাবি উঠেছে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার থেকে নিখোঁজ হওয়া রনির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে।
জানা যায়, জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আনাখন্ড গ্রামের রনি বেপারী (১৯) গত মঙ্গলবার সকালে ভোজেশ্বর বাজারের সবুজ স্টিল কিং দোকানে কাজে যায়। সেখানে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজও করে। কিন্তু তারপরই নিখোঁজ হয় রনি।
পরিবার সেদিন রাতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। পরদিন বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ভোজেশ্বর বাজারের পাশে কৃত্তিনাশা নদীতে রনির মরদেহ ভেসে ওঠে। মৃত্যুর ঘটনায় রনির বাবা ইলিয়াস বেপারী বাদী হয়ে বুধবার রাতে নড়িয়া থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত শুক্রবার একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে সবুজ স্টিল কিংয়ের দোকানে কাজ করতো রনি। সবুজ স্টিল কিংয়ের মালিক সবুজ শাহ`র ভাগ্নি রুমা আক্তারের সঙ্গে প্রেম হয় রনির। কিন্তু গত তিন চার মাস আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় রুমার। বিয়ের পরও রনি রুমার সঙ্গে যোগাযোগ করত।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রনি খুন হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। রনির হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয়রা বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ছাপানোসহ বিক্ষোভও করেছেন।
স্থানীয় কামাল হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, সবুজ স্টিল কিংয়ের মালিক সবুজ শাহর বাড়িতে রনিকে আমরা খোঁজ করতে যাই। তখন ঘরের বারান্দায় রনির মোবাইল ও জামা-কাপড় দেখতে পাই। আমরা ঘরের ভিতরে ঢুকতে চাইলে সবুজের পরিবার আমাদের ঢুকতে দেয়নি। পরের দিন দুপুরে শুনি রনির মরদেহ নদীতে ভেসে উঠেছে।
রনি বেপারীর মা মাহমুদা মনি বলেন, আমার আর সন্তান নেই, আমাকে মাটি দেওয়ার মত কেউ নেই। আমি শুধু চাই আমার ছেলেরে যারা খুন করছে তাদের ফাঁসি হোক।
রনি বেপারীর বাবা মো. ইলিয়াস বেপারী বলেন, আমার ছেলেকে হাত-পা ও ঘাড় ভেঙে হত্যা করেছে রনির দোকানের মালিক সবুজ শাহ্ (২৭), ওর সহযোগী নাহিদ হোসেন (৩৫) ও মিঠু (২০)। তাই ওদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি। আমার ছেলেকে ওরা যেভাবে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, আমি চাই ওদের সেভাবে শাস্তি হোক।
এ ব্যাপারে নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম আলী মিয়া বলেন, রনি বেপারীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে। শুক্রবার সবুজ শাহ্ নামে একজনকে আটক করি। পরে শনিবার সবুজ শাহকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে শরীয়তপুর আদালতে প্রেরণ করেছি। রিমান্ড শেষে বলা যাবে রনি হত্যার মূল ঘটনা কী।
ছগির হোসেন/এফএ/এমএস