অবাক হলেও সত্যি। এক দিন বা দুই দিন নয়, প্রায় ৫০ বছর ধরে টিউবওয়েল চাপলেই বেরোচ্ছে গরম পানি। এই গরম পানি থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই একাধিক টিউবওয়েল বসিয়েছেন।
তবু শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কিছুক্ষণ চাপলেই বেরোচ্ছে গরম পানি। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে জেলার তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের কাওয়াখালী, ভেইয়ারকোনা, সিকদারপাড়া, নয়াপাড়া ও আজবপুর গ্রাম ঘুরে অন্তত ১০টি টিউবওয়েলের পানি দেখে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
টিউবওয়েল থেকে গরম পানি বের হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, একটি বা দুটি নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ৫০টির বেশি টিউবওয়েল থেকে দীর্ঘদিন ধরে গরম পানি আসছে। এ থেকে রেহাই পেতে অনেকের বাড়িতে একটির পরিবর্তে তিনটি পর্যন্ত টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। তবু পানির কোনো পরিবর্তন নেই।
ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, এই টিউবওয়েলগুলো চাপলে প্রথম এক-দুই মিনিট পানি হাতে ছোঁয়া যায়। এরপরই ফুটন্ত গরম পানির মতো পানি বের হতে থাকে। হাতে বা শরীরে লাগালে অনেক সময় ফোসকা পড়ে যায়।
একই এলাকার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. আরফন আলী বাড়িতে ডেকে নিয়ে একটি পুরোনো টিউবওয়েল চেপে গরম পানি বের করে দেখান।
তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে তার বাবা এখানে বসিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই টিউবওয়েল দিয়ে গরম পানি বেরোচ্ছে। এর প্রায় ১৫ গজ দূরের আরেকটি নতুন টিউবওয়েল দেখিয়ে বলেন, গত বছর এই টিউবওয়েলটি বসানো হয়েছে। এটা থেকেও গরম পানি আসে।
পাশের সিকদারপাড়া গ্রামে গিয়েও একই অবস্থা পাওয়া গেল। ওই গ্রামের সৈয়দ বানু (৬০) ও মনোয়ারা বেগম (৫০) বলেন, গরম পানি থেকে রক্ষা পেতে তাদের বাড়িতে পাশাপাশি পরপর তিনটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। কিন্তু সব কটি থেকেই কিছুক্ষণ চাপার পর গরম পানি বের হতে থাকে।
এদিকে কাওয়াখালী বাজারের স্বর্ণকার নন্দন দেবনাথ জানান, এ পানি সোনা বা রুপায় ব্যবহার করলে রং নষ্ট হয়ে কালচে হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পানি অন্য এলাকার পানির মতো খেতে স্বাদ লাগে না। সাবানের পানির মতো পানি অনেকটা পিচ্ছিল এবং গন্ধটাও অন্য রকম। এখানকার মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে এ পানি দূষিত কি না, স্থানীয় বাসিন্দারা তা জানেন না। এমনকি জনস্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেও কেউ যাননি বা পরীক্ষা করেননি।
জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোজাম্মেল হক বলেন, টিউবওয়েল থেকে গরম পানি বের হলে ওই জায়গায় মাটির নিচে গ্যাস থাকতে পারে। গ্যাসের পানিটা কিছুক্ষণ রাখলে ঠান্ডা হয়ে গ্যাস বেরিয়ে যায়, তখন তেমন একটা স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। তবে পানিতে যদি গন্ধ থাকে বা পিচ্ছিল হয়, তাহলে অন্য কোনো খনিজ পদার্থ থাকতে পারে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের। তবে পানি পরীক্ষা করার পর এর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। খোঁজ নিয়ে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
নূর মোহাম্মদ/এএম/জেআইএম