দেশজুড়ে

মামলা করে ফেরার পথে বাদীকে অপহরণ

দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপহরণ মামলা করে হোটেলে ফেরার পথে মামলার বাদীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযোগ করার পরেও পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার বিকেল ৫টার সময় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাকারিয়া হাবিব।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ফতুল্লাহ উপজেলার পাগলার বাজার নিউ মডেল শান্তি নিবাস এলাকার মো. নজরুল ইসলাম খানের ছেলে মো. আবু সাঈদ খান (৩৩) দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট বিসিক এলাকার আবু রায়হান রানার (৪৮) মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘রাইদা অ্যাগ্রো ফুড্স লিমিটেড’ এ চাকরি করতো।

মালিকের আদেশ মোতাবেক আবু সাইদ খান নারায়নগঞ্জের ঝর্ণা ট্রেডার্সসহ বিভিন্ন চালের দোকানে চাল সরবরাহ করতো। গত ২৮ এপ্রিল-২০১৭ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টার সময় মালিকের নির্দেশ মোবাবেক বাড়ি হতে বের হওয়ার পর আর বাড়িতে ফিরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ১ মে সকালে আবু সাঈদকে তার মালিক আবু রায়হান রানা দিনাজপুরের ফুলবাড়ী এলাকায় ৬-৭ জন মিলে জোরপূর্বক আটক করে রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

উপায় না পেয়ে আবু সাঈদের বাবা বাদী নজরুল তার মেঝো ছেলে মো. পলাশ (২৭) ও জামাতা আনোয়ার হোসেন মাতবরকে (২৯) ২ লাখ টাকা দিয়ে আবু সাঈদকে উদ্ধার জন্য আটককারীদের দেয়া ঠিকানায় পাঠায়।

ওদিন রাত ৮টার দিকে তারা দিনাজপুরে পৌঁছে আটককারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আবু রায়হান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী রাত ১১টার সময় ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকে আকট করে রাখে।

পরে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আরও ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ৩ জনের মরদেহ ভারতের সীমান্তে ফেলে রাখা হবে বলে হুমকি দেয় তারা।

এই ঘটনায় রোববার ৭ মে আবু সাঈদের বাবা মো. নজরুল ইসলাম দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ সদর দিনাজপুরে মামলা করেন।

মামলা করে দিনাজপুর শহরের গোলকুঠিস্থ বসুন্ধরা আবাসিক হোটেলে ফেরার পথে হোটেলের পাশ থেকে বিকেল ৩টা দিকে আবু রায়হান রানার সন্ত্রাসী বাহিনী ১০-১২টি মোটরসাইকেলযোগে এসে মামলার বাদী নজরুল ইসলামকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ সময় নজরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাকারিয়া হাবিবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে ও হত্যার হুমকি দেয়।

অপরদিকে একের পর এক সংঘঠিত ঘটনাগুলো জানানোর পরও পুলিশ তাদের উদ্ধারের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বাদী নজরুল ইসলামকে অপহরণের সম্মেলনে তাদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের (ওসি-তদন্ত) ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম