জন্ম থেকেই দুই চোখ অন্ধ। তারপরও ইচ্ছাশক্তি প্রকট। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.০৯ পেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে শরীয়তপুরের মো. দিদারুল ইসলাম (১৭)।
অন্যের ঘাড়ে বোঝা হয়ে না থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য শুরু করে পড়ালেখা। বড় হয়ে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষক হতে চায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী দিদারুল। দাঁড়াতে চায় প্রতিবন্ধীদের পাশে।
দিদারুল ইসলাম শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার বৈশাখীপাড়া গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম খানের ছেলে। দিদারুল সদর পৌরসভায় অবস্থিত আংগারিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম আওতায় সমাজসেবা অধিদফতর থেকে সরকারি খরচে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ষষ্ঠ থেকে দশম আংগারিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।
দিদারুল ইসলামের মা কাঞ্চন মালা বলেন, অভাবের সংসার, কোনো ছেলে-মেয়েকে তো পড়ালেখা করাতে পারলাম না। আমার ছেলে নাকি পাস করেছে। আমি অনেক খুশি। দিদার পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবে, সংসার চালাবে।
দিদারুল ইসলামের বাবা সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, আমি নিজে ঠেলাগাড়িতে কাজ করি। আমার দুই ছেলে দুই মেয়ে। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট ছেলেকে ঢাকাতে কাজ শিখতে দিয়েছি। অভাবের কারণে এক ছেলে দুই মেয়েকে পড়াশুনা করাতে পারিনি। দিদারুল ইসলাম আমার বড় ছেলে। জন্ম থেকেই ছেলেটা আমার দুই চোখে দেখে না। তাই ওকে পড়াশোনার জন্য আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ স্কুলে দেই। আমার ছেলে পাস করেছে। আমরা অনেক খুশি।
আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম আওতায় সমাজসেবা অধিদফতরের রির্সোস টিচার মো. পান্নু মোল্যা বলেন, আমরা প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া করিয়ে থাকি। প্রতি বছরই এই দফতর থেকে দুই একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় দিদারুল ইসলাম ভালো রেজাল্ট করেছে। তবে আমি যত শিক্ষার্থী লেখাপড়া করিয়েছি তার মধ্যে দিদারুল মেধাবী ছাত্র। ওর ভালো রেজাল্টে আমার চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ নয়। দিদারুল পিএসসিতে জিপিএ-৫ ও জেএসসিতে ৪.২৮ পেয়ে কৃতকার্য হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, দিদারুল এসএসসি পাস করেই আমার সঙ্গে দেখা করেছে। দিদারুল অনেক ভালো ছেলে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে। আমি অনেক খুশি। তার অদম্য ইচ্ছাই তাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। আমি দোয়া করি দিদারুল ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করুক। বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করুক।
মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস