সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিলাত মুন্নার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ১১৩ নেতাকর্মীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে বিএনপির ২০ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
সোমবার দুপুরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সিরাজগঞ্জ বিএনপির ১১৩ নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে বিচারক শিরিন কবিতা আক্তার তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পলাতক ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর থানা বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান লেবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, রাশেদুল হাসান রঞ্জন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুর কায়েম সবুজ, পৌর বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান রানা, সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আলম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন রাজেশ, যুগ্ম-আহ্বায়ক মুরাদুজ্জামান মুরাদ, আব্দুল আলীম, জেলা যুবদলের সভাপতি আবু সাঈদ সুইট, সাধারণ সম্পদক মির্জা আব্দুল জব্বার বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন খান, সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রফিক প্রমুখ।
দ্রুত বিচার ট্যাইব্যুনাল আইন ২০০২ (২০০২ সালের ২৮ নং আইন) এর ধারা ৬ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার জনস্বার্থে এই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মীর রুহুল আমীন বাবু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিক সরকার ও এই আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ইনতাজুল হক বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরে বের হয়। মিছিলটি শহরের এসএস রোডে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবিবে মিলাত মুন্নার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা একরামুল হক রিজভী বাদী হয়ে বিএনপির ১১৯ নেতাকর্মীকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৩৩ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/এমএস