দেশজুড়ে

সূর্যমূখী চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর, জিয়ানগর, মঠবাড়িয়া এবং পিরোজপুর সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন পরিপক্ক সোনালী সূর্যমূখী ফুলের সমারোহ। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই এ ফসল কাটা শুরু হবে। জেলার ৭ উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলায় সূর্যমূখী ফুলের চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে ২শ` ৫০ হেক্টরে ৭শ` ৫০ টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উৎপাদন অনেক বেশি হবে। এই জেলায় গত কয়েক বছরে সূর্যমূখীর চাষ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলেও চলতি মৌসুমে প্রায় শত হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭ উপজেলায় এবার ১৪টি প্রদর্শনী ক্ষেত করা হয়েছে। চাষিদের এই চাষে আকৃষ্ট করতে এসব ক্ষেতে সরকার বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহ করছে এবং চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফুলের বীজ সংগ্রহ, রোদে শুকানো এবং তেল তৈরির কলাকৌশল হাতেনাতে শিখিয়ে দিচ্ছে। মঠবাড়িয়া এবং নাজিরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে যথাক্রমে ৯৫ হেক্টর ও ৮০ হেক্টরে সূর্যমূখীর চাষ হয়েছে। জিয়ানগরে হয়েছে ৪০ হেক্টরে, সদর উপজেলায় হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে। অন্য দিকে ব্রাকের তথ্য মতে তাদের উদ্যোগে সূর্যমুখী চাষের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়ান এইড’ এর সহায়তায় ‘কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা প্রোগ্রাম’ এর আওতায় এ বছর কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের সার্বিক সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য ও পরামর্শে বাম্পার ফলন পাবেন কৃষকরা। সূর্যমুখী চাষের ব্যাপারে ব্রাকের সদর উপজেলা ব্যবস্থাপক যায়েদা সালাম জাগো নিউজকে বলেন, তারা কৃষকদের জমি চাষ থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত কৃষকদের সঙ্গে থেকেছেন এবং তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তিনি জানান, এ কর্মসূচির আওতায় সদর উপজেলায় ১১০ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষসহ জেলার নাজিরপুর ও জিয়ানগর মোট ৩৫৬ একর জমিতে ৪২০ জন চাষি সূর্যমুখী চাষের সঙ্গে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন সময় কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্বিগ বিজয় হাজরা জাগো নিউজকে জানান, ইতোপূর্বে পতিত থাকা জমি বা অলাভজনক ফসল চাষাবাদের জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করে চাষীরা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন। মিঠা আলু চাষ করে যেখানে প্রতি হেক্টরে আয় হতো ৫০ হাজার টাকা সেখানে সূর্যমূখীর চাষ করে এবার আয় হবে ১ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা। এছাড়া জালানির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সূর্যমূখীর ৬ থেকে ৭ ফিট লম্বা এবং প্রায় ১ ইঞ্চি ব্যসার্ধের গাছ। ২১ এপ্রিল বিকেলে সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামে যান পিরোজপুর জেলা প্রশাসক এ.কে.এম শামিমুল হক সিদ্দিকী। সূর্যমুখী মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সময়মতো সার ও অন্যান্য কৃষি উপাদান সহজে পাওয়ায় দিন দিন কৃষকদের চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তিনি ইউনিয়নের দুটি ব্লক পরিদর্শন করে ক্ষেতের অবস্থা ভালো বলেন এবং আরও আগাম চাষের পরামর্শ দেন। হাসান মামুন/এমজেড/আরআইপি