দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারণে ভূমি অবনমন হয়ে ও কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে আবারও তলিয়ে গেছে ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া বাজারের সড়কটি।
ফলে তলিয়ে যাওয়া সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ফুলবাড়ী থেকে বড়পুকুরিয়া বাজার হয়ে খয়েরপুকুর হাট পর্যন্ত শত শত ছোট-বড় যানবহনসহ পথচারী ও স্কুল কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সড়কটি দিয়ে চলাচলরত যানবাহনের চালকরা জানায়, এই রাস্তা দিয়ে পার্বতীপুর উপজেলার খয়েরপুকুর হাট, হামিদপুর ইউনিয়নের খলিলপুর সুলতানপুর সরদারপাড়া, বাশঁপুকুর, বৈদ্যনাথপুর, শিবকৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
এলাকাবাসী জানায়, এই এলাকাটি পার্বতীপুর উপজেলার হলেও, ফুলবাড়ী উপজেলার নিকটবর্তী স্থান ও যাতায়াতের সুবিধায় তারা ফুলবাড়ী উপজেলার হাট বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য তারা ফুলবাড়ী বাজারে বেচা-কেনা করে থাকেন। ফলে এই রাস্তটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু রাস্তাটি বার বার তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, খনির কারণে ভূমি অবনমন হয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত এক বছর আগে একই কারণে এই সড়কটি তলিয়ে যায়। সে সময় খনি কর্তৃপক্ষ সড়টির ওপর রাবিস দিয়ে উঁচু করে দেয়। এই বছর আবারও তা তলিয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে প্রতিদিন এই এলাকায় ভূমি অবনমন হয়। যার ফলে রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যায়। বাড়িঘরে ফাটল ধরে। গত ২০১১ সালে ভূমি অবনমনের কারণে খনি কর্তৃপক্ষ ৬৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ করলেও চলাচলের এই রাস্তাটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়নি ফলে রাস্তাটির নতুন নতুন জায়গা তলিয়ে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোলমাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাস্তাটি মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। এখন কাজ শুরু হবে। রাস্তাটি মেরামত হলে এই দুর্ভোগ আর থাকবে না।
এমদাদুল হক মিলন/এএম/পিআর