কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় জাতীয় শ্রমিক লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের পৌরপার্কের শহীদ মিনার চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা জানান, সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠনের জন্য খায়রুল-সুধাংশু কুমার, হায়দার-হাসু ও মোহাম্মদ আলী-জামিনুর ৩টি প্যানেল উত্থাপিত হয়। দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও জনশক্তি সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান সিরাজ পূর্বের কমিটির খায়রুল ইসলামকে সভাপতি ও শুধাংশু কুমার রায়কে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটি ঘোষণার পরপরই অসন্তোষ প্রকাশ করে অন্যান্য প্যানেলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকটি চেয়ার ও ব্যানার ভাঙচুর করা হয়।
পরে এই কমিটি বাতিল ও নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কিছুক্ষণ শহরের স্টেশন রোড অবরোধ করে রাখেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নেতাকর্মীরা গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সামনে এসে একত্র হন। এসময় সাংবাদিকদের কাছে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। সেখানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ সর্দার আসাদুজ্জামান হাসু, জাতীয় শ্রমিক লীগ গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জামিনুর রহমান জামিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানানো হলেও তা করা হয়নি। তার পরিবর্তে পূর্বের সভাপতি খায়রুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু কুমার রায়কে বহাল রেখেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তারা সংগঠনের নিয়মানুসারে এই কমিটিতে থাকার কোনো যোগ্যতাই রাখেন না। কিন্তু তাদেরকেই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। যা সংগঠনের নিয়ম পরিপন্থী। তাই আমরা এই কমিটি বাতিল চাই। নতুন করে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি করার জন্য তারা দাবি জানান।
গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মেহেদী হাসান বলেন, সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা নিয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্য প্যানেলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রওশন আলম পাপুল/এমএএস/পিআর