দেশজুড়ে

সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, ভোগান্তিতে মানুষ

গাইবান্ধা-গিদারী ১১ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার অংশের কার্পেটিং (পিচ) উঠে গিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই পথে চলাচলকারী যানবাহনগুলো অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন মালিকরা। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই অবস্থা চললেও সড়কটি মেরামতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কোনো উদ্যোগই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন।

গাইবান্ধা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা থেকে গিদারী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কটির ১১ কিলোমিটার। ৩ বছর আগে এই সড়কটি পাকা করা হয়। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই কামারজানী, গিদারী, ঘাগোয়া ও খোলাহাটি ইউনিয়নের ১৫ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, ঘাগোয়া ইউনিয়নের হাতিয়ার ব্রিজ, ভাটিয়াপাড়া, তালতলা বাজার, পঁচারকুঁড়া ব্রিজ, গিদারী ইউনিয়নের আনালের ছড়া ও ধুতিচোরা গ্রামের সড়কের অসংখ্য স্থানের কার্পেটিং (পিচ) উঠে গেছে। সড়কের পাশে কোনো ফুটপাত নেই। ফলে মানুষ সড়কের উপর দিয়েই চলাচল করে।

কখনও দুইপাশ থেকেই গাড়ি এলে সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষকে সড়কের পাশের জমিতে নামতে হয়। অপরদিকে একটি ট্রাক ঢুকলে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি অতিক্রম করে যেতে ঝুঁকি থাকে। কখনও কখনও গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফুটপাত না থাকায় এই ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন এই পথে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা। ফলে যানবাহন চালক ও মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এই পথে চলাচলকারী অটোচালক আলমগীর হোসেন বললেন, সড়কটির অসংখ্য স্থানের পিচ উঠে গেছে। ছোটবড় গর্তের কারণে গাড়ি চালাতে ধরে সমস্যায় পড়তে হয়। রাস্তার বেহাল দশার কারণে গাড়ি প্রতি সপ্তাহেই মেরামত করতে হচ্ছে। ফলে লাভের মুখ না দেখে উল্টো আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছি।

ধুতিচোরা গ্রামের কলেজছাত্র শাহাদৎ হোসেন ও শ্যামল চন্দ্র বলেন, কামারজানী ও গিদারী ইউনিয়নের সাথে সরাসরি গাইবান্ধা শহরের সাথে অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে এই সড়কটি। সড়কে কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এখন যদি সামান্যতেই ঠিক করা না হয়, তাহলে আর কিছুদিন পরে পুরো সড়কটি পুনরায় কার্পেটিং না করলে এই পথে আর চলাচল করা সম্ভব হবে না। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে চলাচলে যানবাহন চালক ও যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি।

ধুতিচোরা দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই পথে চলাচল করছি। রাস্তাটা কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে অনেক কষ্টে যেতে হয়েছে। রাস্তাটি পাকা হওয়ার পর ভেবেছি এবার বুঝি কষ্ট লাঘব হলো। কিন্তু সড়কটি নির্মাণের ২ বছর পরই অনেক অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। ফলে আমাদেরকে চলাচলে এখন কষ্ট পেতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুল আলম মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে মেরামত করা হবে।

এমএএস/পিআর