কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রল বোমা হামলায় আটজন ঘুমন্ত যাত্রী হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হয়ে উচ্চ আদালতের জামিন আবেদন দাখিল করলে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৭ মে তিনি হাইকোর্ট থেকে দুই মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার সংলগ্ন জগমোহনপুর নামক স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে আটজন ঘুমন্ত যাত্রী মারা যান।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এই দুইটি মামলার পৃথক এজাহারে বিএনপি-জামায়াতের ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
দুটি মামলায় ২ বছর ১ মাস তদন্ত ও পুলিশসহ ৬২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ এজাহার বহির্ভূত ৩২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে গত ৬ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় মনিরুল হক চৌধুরী হাইকোর্ট থেকে ২ মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান।
মনিরুল হক চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সা’দাত জানান, দুটি মামলায় তিনি গত ৭ মে হাইকোর্ট থেকে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। হাইকোর্টের দেয়া আদেশ অনুযায়ী কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হয়ে জামিন নামা (বেলবণ্ড) দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে হুকুমের আসামি করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া এ দুটি মামলার চার্জশিটের ৫১ নম্বর আসামি।
কামাল উদ্দিন/আরএআর/পিআর