নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যুবলীগ নেতা মাসুম হত্যা মামলায় আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর মামলার চার্জশিট দাখিল করে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা থানা পুলিশ। আর সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় চার্জশিটে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১২ জনকে সাক্ষী দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর চার্জশিটটি দাখিল করেন।
চার্জশিট দাখিলের সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই শওকত হোসেন জানান, নির্দিষ্ট দিনে চার্জশিটটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার হায়দার আলীর ছেলে ইয়াসিন, লালপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ভোল্ডার সেলিম, দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার মৃত. গফুর সিদ্দিকীর ছেলে তুষার আহমেদ মিঠু ওরফে পিস্তল মিঠু একই এলাকার আলী নূর বেপারীর ছেলে শহীদ হোসেন ওরফে শহীদ ডাকাত ও পিলকুনি এলাকার সামসুল হকের ছেলে ডাকাত শাহীন। তারা প্রত্যেকেই ফতুল্লা থানার তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দোহার থানার ফুলওলা তিন দোকান এলাকার মৃত. মুনসুর আলী ও রহিমা বেগমের ছেলে ফতুল্লা যুবলীগ নেতা মাসুম (২২)। ১৯৯৭ সাল থেকে মাসুম ফতুল্লার দাপা এলাকায় স্ত্রী রেখা আক্তারকে নিয়ে বসবাস করেন।
২০০১ সালের ১৫ অক্টোবর দুপুর ২টায় ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা ধরে মাসুমকে দাপা এলাকায় নিয়ে পিটিয়ে হত্যা শেষে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় বিএনপি জোট সরকারের সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাৎক্ষণিক ছেলের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়েজ আহমেদ চার্জশিটের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি। আর যার বিরুদ্ধে পাইনি তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির জন্য আদালতে আবেদন করেছি।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর