প্রথমদিকে লাভজনক হলেও বর্তমানে সাতক্ষীরায় ব্রয়লার পোল্ট্রি শিল্পে ধস নেমেছে। লাভ তো হচ্ছেই না বরং বিনিয়োগের টাকাও না তুলছে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
ফলে পোল্ট্রি ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে যুবসমাজ। পোল্ট্রি শিল্পের নীতিমালা না থাকা ও সিন্ডিকেটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা।
১৯৯০-৯২ সালের দিকে সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে পোল্ট্রির চাষ শুরু হয়। ৭০-৭৫ টাকায় মুরগির বাচ্চা কিনে ৪০-৪৫ দিন পরে বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১০৭ টাকায়।
এর মধ্যে রয়েছে বাচ্চার লালন-পালনসহ সার্বিক ব্যবস্থা। জেলায় প্রায় ২৫ হাজার পোল্ট্রি খামারির মধ্যে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন।
সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুর এলাকার পোল্ট্রি খামার মালিক শেখ শাহজাহান আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘৩০ লাখ টাকা লোন নিয়ে ২ একর জমি বছরে ২ লাখ টাকায় লিজ নিয়ে খামারটি দাঁড় করিয়েছি। লাভের জন্য এই খামার করেছি। একটি বাচ্চা ৭০-৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এক বস্তা খাবার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আবার একটি বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১০৭ টাকায়। লাভ তো নেই বিনিয়োগের টাকাটাও উঠছে না।’
ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা যে পরিমাণ দামে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য কিনছি সে তুলনায় দামে মুরগি বিক্রি করতে পারছি না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারিরা।
এছাড়া এর কোনো নীতিমালা নেই। বাচ্চার মূল্য নির্ধারণে সরকার একবার উদ্যোগ নিয়েছিল তবে সেটি মাত্র ৩-৪ দিন স্থায়ী হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে বেকার হয়ে রয়েছেন।
মধ্যস্থতাভোগী নিচ্ছেন প্রকৃত সুবিধা এমনটা জানিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার বিপ্লব জিৎ কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে বাচ্চার মূল্যটা অনেকটা বেশি। একটা বাচ্চার দাম ৮০ টাকা। বাচ্চার দাম কমানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা বার বার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। খাদ্য বিক্রেতারা বাকিতে বাচ্চা দিচ্ছে, খাদ্য দিচ্ছে আবার ওষুধ দিচ্ছে। সিন্ডিকেট করে ফেলেছে সবখানে। বাধ্য হয়েই ব্যবসায়ীদের তাদের হাতের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। মধ্যস্থতাভোগী হিসেবে তারাই সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে বেশি। এজন্য প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
আকরামুল ইসলাম/এএম/জেআইএম