কৃষি এলাকা খ্যাত যশোরের শার্শা-বেনাপোলে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলছে ধান ঘরে তোলার কাজ। গত ১০ দিনে বেনাপোল স্থল পথে ভারত থেকে দেড় হাজার মেট্রিকটন ভারতীয় চাল আমদানি করা হয়েছে। প্রতিদিন আসছে কয়েকশ` টন ভারতীয় এলসির চাল। প্রতি মেট্রিকটন চাল ৪৩০ থেকে ৪৩৫ মার্কিন ডলারে আমদানি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ভারতীয় চালের দাম কম পড়ছে। ফলে কমে গেছে দেশীয় ধান চালের বাজার। উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের। বিপাকে চাষীরা। লোকসান কমাতে মাঠে নেমেছেন গৃহবধূসহ নারী শ্রমিকরা। যখন কৃষকের ঘরে ঘরে চলে নবান্নের উৎসব। ভারতীয় চাল আমদানির কারণে এবার কৃষকের ঘরে নবান্নের উৎসব ম্লান হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও অশান্তি। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক অটো রাইস মিল। বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার চাতাল ও রাইস মিল শ্রমিকরা। কৃষকের মধ্যে প্রণোদনাসহ সার ডিজেলের সহজলভ্যতা ও প্রাকৃতিক আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলায় ২১ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে উপশি ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার। তবে ধানের দাম কমে যাওয়ায় নাখোশ কৃষকরা। ধানের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি। ভারত থেকে এলসির চাল আসা বন্ধ করে কৃষকের ধানের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান ধান চাষি, আড়ৎ ব্যবসায়ী, চাতাল ও অটো রাইস মিল মালিকরাসহ কৃষক ও শ্রমিকরা। তারা বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। রক্ষা পাবে হাজারও চাষি।শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার আরো বলেন, কৃষকরা এবার ধানের বাম্পার ফলন পেলেও বিক্রয় মূল্য কম পাচ্ছেন। ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। বিষয়টি কৃষি অধিদফতরকে অবহিত করা হয়েছে। নাভারনের চাল আমদানিকারক নাভারন ট্রেডার্সের পরিচালক হযরত আলী জাগো নিউজকে জানান, প্রতিদিন আসছে ভারতীয় চাল। স্থানীয় চালের দাম বেশী হওয়ায় ক্রয় বেচাকেনায় সমস্যা হচ্ছে।বেনাপোলের ধান চালের আড়ৎ ব্যবসায়ী মোজাম জাগো নিউজকে জানান, এমনিতেই অনেক আউশ আমন ধান চাল আড়তে পড়ে আছে। বেচা বিক্রি নেই তেমন। এবার ইরি ধানের ফলন ভাল হয়েছে। প্রচুর ধান আসছে আড়তে। বিক্রি হচ্ছে কম। সাড়ে ৪শ` থেকে সাড়ে ৫শ` টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে ধান। তবে এলসির চাল আসাই ধান চালের চাহিদা কম বলে জানান তিনি। কৃষানী লতিফুনেছা জাগো নিউজকে বলেন, ধানের দাম নেই। উৎপাদন খরচ উঠবে না। তাদের মনে নেই আনন্দ। কিছুটা লোকসান কমাতেই কাজ করতে মাঠে নেমেছেন তারা। একই কথা বলেন শার্শার ধান চাষি আনোয়ার হোসেন ও কুলপালা গ্রামের আফরোজা বেগম এবং চাষি আব্দুল মোবারক হোসেন।ধান চাল ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম জাগো নিউজকে বলেন, তাদের বেচাকেনা কমে গেছে। ধানের বাজার কম। কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। এবার নবান্নের উৎসব নেই কোথাও। শার্শার চৌধুরী অটো রাইস মিল শ্রমিক নুর উদ্দিন গাজী জাগো নিউজকে বলেন, ভারতীয় এলসির চাল আসাই তাদের মিলে কোন কাজ নেই। শতাধিক শ্রমিককে কাটাতে হচ্ছে অমানবিক জীবন। মো. জামাল হোসেন/এমজেড/এমএস