দেশজুড়ে

হাতিয়ায় বিআরডিবি কর্মকর্তাদের মারামারি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা বিআরডিবি অফিসে কর্মকর্তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ মারামারির ঘটনা ঘটে।

এ সময় বিআরডিবি অফিসের নিচের তলায় দেওয়ানি ও ফোজদারি আদালত দুইটির চলমান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। শত শত উৎসুক জনতা বিআরডিবি অফিসের মারামারি দেখতে জড়ো হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টায় বিআরডিবি অফিসে আরডিও (ভারপ্রাপ্ত) ওবায়দুল ইসলাম এআরডিও সন্তোষ কুমার দাসকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে কিলঘুষি ও লাথি দিতে থাকেন।

আরডিও ও তার পিয়ন মনির একত্রিত হয়ে সন্তোষের ওপর চড়াও হন। এ সময় সন্তোষের চিৎকারে আদালতগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং আইনজীবীসহ শত শত উৎসুক জনতা বিআরডিবি অফিসের মারামারি দেখতে জড়ো হয়।

একপর্যায়ে সন্তোষ দরজা খুলে বেরিয়ে এসে নিজকে রক্ষা করে। পরে উপস্থিত জনতা সন্তোষকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে ভর্তি করায়।

এআরডিও সন্তোষ বলেন, আরডিও ও তার কয়েকজন সহযোগী গত কয়েকদিন ধরে এজিএম না করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকল সদস্যের এজিএমে উপস্থিতি নিশ্চিত করে স্বাক্ষর আদায়ের জন্য চাপাচাপি করে। আমি তাদের এ অনৈতিক আবদারে রাজি না হওয়ায় তারা সকাল ১০টায় আমাকে আরডিও (ভারপ্রাপ্ত) ওবায়দুল ইসলামের কক্ষে নিয়ে যায় এবং কথা কাটাকাটি করে। একপর্যায়ে আরডিও পিয়ন মনিরকে রেখে অন্যান্যদেরকে বের করে দিয়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয়। রালার ও পেপার ওয়েট দিয়ে আরডিও ও পিয়ন মনির আমাকে আঘাত করতে থাকে। এতে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হলে কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়।

এ ব্যাপারে আরডিও (ভারপ্রাপ্ত) ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি, কেবল কথা কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে।

বিআরডিবির হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা রহিমা খাতুন বলেন, সকাল সাড়ে ১০ টায় স্যারের (আরডিও) কক্ষে  মারামারির শব্দ শুনেছি। কিছুক্ষণ পর সন্তোষ বাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজন ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছি।

মিজানুর রহমান/এএম/আরআইপি