দেশজুড়ে

পিরোজপুরে ১২ গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে

পিরোজপুরের জনগুরুত্বপূর্ণ পাড়েরহাট ও গুদিঘাটা ব্রিজ দুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার ১২ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। বাঁশ-কাঠ ব্যবহার করে বিকল্প সাঁকো দিয়ে আবার কোথাও স্ব-উদ্যোগে নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে অন্তত পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ও এ অঞ্চলের বৃহৎ মৎস্যজীবী ব্যবসায়ীরা। ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ যোযোগ ব্যবস্থাও।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজ দুটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অগ্রগতি না দেখায় স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী, ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী ও পরিবহন চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাদের দাবি অবিলম্বে ব্রিজ দুটি নির্মাণ করা হোক।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলা ও ইন্দুরকানি উপজেলার মধ্যস্থলে মৎস্য বন্দর খ্যাত উমেদপুর খালের পুরাতন আয়রন ব্রিজটি (লোহার খুটির উপর সিমেন্ট খোয়ার ঢালাইয়ে সেতুটি নির্মিত) একটি ইঞ্জিন ট্রলারের ধাক্কায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভেঙে পড়ে। পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।

পিরোজপুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য বন্দরের সেতুটির দৈর্ঘ্য ২শ ফুট এবং প্রস্থ ৮ ফুট। প্রায় ৩৬ বছর আগে পিরোজপুর জেলা পরিষদ এটি নির্মাণ করে। এখন এটি দেখভালের দায়িত্ব পিরোজপুর এলজিইডির।

পাড়েরহাট বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ইকবার হোসেন উকিল জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে শংকরপাশার বাদুরা গ্রামে মৎস্য বন্দর গড়ে উঠেছে। এ মৎস্য বন্দর ঘিরে ধীরে ধীরে বন্দরের অপর তীরে (পাড়েরহাট বন্দরে) বড় মুদি-মনোহরী, কাপড়-চোপরের দোকান তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের উচিত সেতু মেরামত বা পুনঃনির্মাণ করা।

অন্যদিকে, জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়ন ও মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের সংযোগ খালের ওপর ১২২ ফুট দীর্ঘ গুদিঘাটা বেইলি ব্রিজটি গত বছরের ১৫ জুন পাথর বোঝাই দুটি ট্রাক নিয়ে ভেঙে পড়ার অন্তত নয় মাস অতিবাহিত হলেও ব্রিজটি নির্মাণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তেমন কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছেনা।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসান জানান, বরিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় হুলারহাট থেকে পাড়েরহাট বন্দর অংশে একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

হাসান মামুন/এমএএস/এমএস