দেশজুড়ে

মোর সন্তানেরা বোবা, তাই মুই কোনোদিন মা ডাক হোনতে পাই নাই

`মা` ছোট্ট একটি শব্দ। একটি অক্ষর। একটি মধুর ডাক। এই ছোট্ট অক্ষরের মধ্যে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া মমতা আদর আহ্লাদ, প্রেম ভালবাসা অভাব অভিযোগসহ সককিছু। `মা` ছাড়া দুনিয়া অচল। `মা` দিবস উপলক্ষ্যে পিরোজপুরের কাউখালী প্রতিবন্ধী স্কুলের উদ্যোগে রোববার সকাল ১০টায় প্রতিবন্ধী স্কুল চত্বরে ১৫ জন প্রতিবন্ধীর মা`দেরকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার এলাকার মানুষের কাছে সাদামনের মানুষ হিসেবে পরিচিত আ. লতিফ খসরু। সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র ১৫ জন মাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই পনের জন মায়ের মধ্যে রয়েছেন তিনজন শতবর্ষী মা।সংবর্ধিত চার বাক প্রতিবন্ধী সন্তানের মা মঞ্জিলা বেগম বলেন, `মোর শোয়ামি বোবা মোর চারডা মাইয়া পোলাও বোবা। মুই কোনদিন ওদের মুখে মা ডাক হোনতে পাই নাই। এইডা মোর বড় কষ্ট। কিন্তু খসরু ভাই মোরে মা দিবসে মা কইয়া ডাক দেছে হেতে মুই খুশি অইছি। হে অনেক মায়গো বোলাইয়া খাওয়াইছে মালা দেছে, একখানা কইরা শাড়িও দেছে এইতে মোরা খুব খুশি হইছি।`যে সব মায়েদের সংবর্ধিত করা হয় তারা হলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বামী সন্তান হারা আমরাজুড়ী ইউনিয়নের গন্ধর্ব্য গ্রামের রাজেন্দ্রনাথ রায়ের মেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা উর্মিলা রানী রায় (৯০)। উপজেলার কেউন্দিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের মা আমজেদুন নেছা (৮০), একই গ্রামের মৃত আউয়ালের স্ত্রী সাফিয়া বেগম (১০০) কেউন্দিয়া গ্রামের শুক্তুর খানের স্ত্রী ফাতিমা বেগম (১০০)  আমরাজুড়ী আবাসন প্রকল্পে বসবাসকারি জাহিদের মা রেক্সেনা বেগম (৭০) চার বাক প্রতিবন্ধী সন্তানের মা মঞ্জিলা বেগম (৬০)  দুই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তানজিলা ও আসমার মা সাহেরা বেগম (৭০) আমরাজুড়ী আবাসনে বসবাসকারী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শান্তার মা আমেনা বেগম (৫০) উপজেলার বাশুরী গ্রামের মৃত. দেরাগ আলী ফকিরের স্ত্রী শতবর্ষী মকিমন নেছা। উপজেলার দাশেরকাঠী গ্রামের স্ত্রী হালিমা বেগম (৭০), গন্ধর্ব্য গ্রামের বকুল বালা রায় (৭৫), কাউখালী সদরের স্ত্রী সুষমা সাধক, আমিরুন নেছা (৭৫) চিরাপাড়া গ্রামের শ্রমজীবী রহিমা বেগম (৬৫), মঞ্জুরানী দাস (৬০), সাফিয়া বেগম (৮০), কুলসুম (৭০)। সংবর্ধিত মায়েদেরকে মালা পরিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। মিষ্টি, দধি, ফল দিয়ে তাদেরকে আপ্যায়ন করা হয়। উপহার হিসেবে প্রত্যেক মাকে একটি করে শাড়ি দেয়া হয়। প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সমাজ সেবক আ. খসরুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আমরাজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ লাল গুহ, কাউখালী মহিলা পরিষদ সভানেত্রী জাহানুর বেগম, কাউখালী উত্তর বাজার যুব কল্যাণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাকিব উদ্দীন পাবেল, ইউপি সদস্য নেপাল চন্দ্র দে, ক্ষুদে সন্তান তাহমিদ প্রমুখ। এ ব্যাপারে উদ্যোক্তা সাদা মনের মানুষ আ. লতিফ খসরু জাগো নিউজকে বলেন, মায়েদের জন্য সবদিনই সমান, তবে এই দিনটি মায়েদের জন্য একটি বিশেষ দিন। আমার মা নেই। আমার যা কিছু অর্জন তার পেছনে মায়ের অবদান অনেক। আজকের এই মা দিবসে এসকল মায়ের মাঝে খুঁজে পেলাম আমার মাকে। আমি এ্ই মায়েদের সংবর্ধনা দিতে পেরে নিজেকে গর্বিতবোধ করছি। আমাদের যাদের মা বেঁচে আছেন। তাদের জন্য উৎসর্গ করি নিজেকে। তাদের প্রতি হই বেশি করে যত্নবান। আমাদের যাদের মা বেঁচে নেই, সেই মায়েদের জন্য দোয়া করি। কাউখালীর বিশিষ্ট সাংস্কৃতিকজন সুব্রত রায় বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের সকলের মায়ের জন্য একটি বিশেষ দিন। খসরু ভাই যে উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন তা আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয়। হাসান মামুন/এমজেড/আরআইপি