সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ আলি সরদারের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২৬) জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। দু’টি পা অচল। দু’হাতেও স্বাভাবিক কিছু করার সক্ষমতা নেই। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ায় পর খায়রুলের মা আমিরুন নেছাকে তালাক দেয় বাবা মোহাম্মদ আলী। তিন মাসের শিশু খায়রুলকে নিয়ে মা গোয়ালডাঙ্গায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভাব অনটনের মধ্যেই বেড়ে ওঠা খায়রুলের। প্রতিবন্ধী ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা ছিল মা আমিরুন নেছার। মায়ের আশা পূরোণ করতে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে নিজের পড়ার খরচ যোগাতে টিউশনি শুরু করেন খায়রুল। এভাবে নিজের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে ২০০৫ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
২০০৭ সালে ২.১৭ পেয়ে আলিম পাস করেন। বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুল থেকে এইচএসসি ও ২০০৯ সালে ফাজিল পাস করেন ২.১৭ পেয়ে। পরে ২০১৩ সালে আশাশুনি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাসে ফার্স্টক্লাস নিয়ে অনার্স পাস করেন। সবশেষ খুলনা বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স (ইসলামের ইতিহাস) পরীক্ষায় ২০১৬ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা আলিয়া মাদরাসা থেকে হাদীস গ্রুপ থেকে কামিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন খায়রুল ইসলাম।
খায়রুল ইসলাম জানান, আমার খুব ইচ্ছা রয়েছে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার। সমাজের বোঝা হয়ে থাকার মধ্যে কোনো তৃপ্তি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা কুরে কুরে খাচ্ছে। তবুও হতাশ হয়নি। একটা চাকরি চাই আমি।
এদিকে শনিবার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি গোয়ালডাঙ্গায় খায়রুলের কৃতিত্বের খবর জানার পর বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ খবর নেন।
এসময় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খায়রুল প্রতিবন্ধী হলেও সে যে প্রতিফলন দেখিয়েছে তা সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। প্রতিবন্ধী হয়েও সংসারের ঘানি টেনে আবার মাস্টার্স শেষ করা এটা সহজ কথা নয়। খায়রুল আমাদের সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অদম্য ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকলে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা সম্ভব খায়রুল ইসলাম তা করে দেখিয়েছে। এ সাফল্যকে আমরা ঝরে যেতে দিতে পারি না। খায়রুলের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস