দেশজুড়ে

তবুও দিতে হচ্ছে বিল

পাম্প বিকল থাকায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ওই ওয়ার্ডের চার শতাধিক পরিবার দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিল আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, পৌরসভার ৯ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া, গোবিন্দনগর, মুন্সিরহাট, ইসলামনগর ও রোড এলাকায় তিন মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে তারা বিকল্প ব্যবস্থায় পানি এনে গৃহস্থালির কাজ করছেন।পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌর এলাকায় পাঁচটি পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। পাম্পগুলো শান্তিনগর, সরকারপাড়া, কালীবাড়ি কলেজপাড়া ও ঠাকুরগাঁও রোড মহল্লায় অবস্থিত। গ্রাহকদের এজন্য প্রতি মাসে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা করে বিল পরিশোধ করতে হয়। পাঁচটি পাম্পের মধ্যে এখন তিনটি চালু রয়েছে। বাকি দুটি পাম্প অকেজো হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ আছে। ওই দুটি পাম্পের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানি পৌরসভার পশ্চিমাঞ্চলের চারটি ওয়ার্ডের ৪১০টি পরিবার ব্যবহার করতো।কলেজপাড়ার বাসিন্দা নাজমুল হাসান অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, এক-দেড় বছর ধরে তারা নিয়মিত পানি পাচ্ছিলেন না। পাঁচ-ছয় মাস আগে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। পৌরসভায় অভিযোগ নিয়ে গেলে তারা সমস্যা সমাধানে আশ্বাস না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নেয়ার পরামর্শ দেন।রোড বাজার মহল্লার বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, তিন মাস ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করতে না পারলেও পানির বিল দিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই। সেবা না দিয়েও গ্রাহকদের হাতে বিল ধরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে নামার কথা ভাবছি।মুন্সিরহাট মহল্লার বাসিন্দা মো. হাসান আলী জাগো নিউজকে বলেন, পানি না পেয়ে মেয়রের কাছে কয়েক দফা অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই বাড়িতে নলকূপ বসিয়ে পানি তুলছেন।পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. একরামুদ্দৌলা জাগো নিউজকে বলেন, আমার কাছে পানির সঙ্কটের কথা বলে কোনো লাভ নেই। আপনারা লিখলেই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন জাগো নিউজকে জানান, কলেজপাড়ায় পাম্প বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে সেটা চালু হয়ে যাবে। আর রোড এলাকার পাম্পটি বসানোর কাজ চলছে।পৌর মেয়র এস এম এ মঈনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ প্রসঙ্গে সচিব মো. মজিবর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, অভিযোগ নিয়ে অনেকেই তাদের কাছে আসছেন। পৌরসভা পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। তাই বিল বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। অভিযোগ নিয়ে আসা গ্রাহকদের বিল এড়াতে পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে নিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।রবিউল এহসান রিপন/এমজেড/আরআইপি