দেশজুড়ে

উপকূল অতিক্রম করছে ‘মোরা’

আতঙ্কের পর এখন দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে দমকা ও ঝড়ো হওয়ায় নিয়ে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার উপকূল ছুঁয়ে চট্টগ্রাম-হাতিয়া-সন্দ্বীপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। কিন্তু সাগরে ভাটার কারণে অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন উপকূলের মানুষ।

কিন্তু ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় সেন্টমার্টিন, পোকখালী, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ পুরো জেলায় অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে। উপড়ে গেছে গাছপালা। তবে,  নিরাপদে রয়েছেন আশ্রয়ে থাকা উপকূলের বাসিন্দারা।

কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম নিয়ন্ত্রক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টার পরে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে বাতাস ও ঝড়ের ধাক্কায় জেলার উপকূলসহ সমতলেও অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে। উপড়ে গেছে অগণিত গাছপালা। অনেক জায়গায় সড়কের পাশের গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে স্বাভাবিক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উপকূলজুড়ে কাজ করা প্রায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ উপকূল অতিক্রম করার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট জলোচ্ছ্বাস হওয়ার দুর্ভোগ থেকে উপকূলবাসী রক্ষা পেয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় মোরা অতিক্রম করার সময় সাগরে পূর্ণ ভাটা থাকায় জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু ও ধলঘাটা ইউপি চেয়ারমান কাসরুল হাসান।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, দ্বীপের অধিকাংশ বাড়ি কাঁচা। তাই দমকা হাওয়া শুরুর পর সিংহভাগ বাড়ির চাল উড়ে গেছে।

সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান,  ঝড়ে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো সঠিক বলা যাচ্ছে না। ঝড় থামলে ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্টরা তা নিরুপণে কাজ করবে।

কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ জানান, উপকলূলবর্তী উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব গোমাতলীসহ পুরো ইউনিয়নে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে। তবে সেহেরির সময় সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় কোনো ধরণের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, গোমাতলীতে বেশ কিছু এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে বিগত বছর থেকে। তাই ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালীন সময়ে জলোচ্ছ্বাসের ভয়ে আতঙ্কিত ছিল স্থানীয়রা। কিন্তু দমকা ও ঝড়ো হাওয়া নিয়ে মোরা অতিক্রম করার সময় সাগরে ভাটা থাকায় জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা ঘটেনি। তাই সবাই আল্লাহর শোকর আদায় করেছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হওয়া দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় মোরা। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার। তবে এটি কখন অতিক্রম শেষ হবে তা এখনো সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে পুরো জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, আমরা দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিয়েছি। পুরো জেলায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। সব জায়গায় প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয়  নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/এমএস