পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডে মুড়ি ভেজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সারা বছর মুড়ির চাহিদা থাকলেও পবিত্র রমজান মাসের শুরুর দিক থেকে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় অনেকগুণ। তাই মুড়ি পল্লীতে দিন-রাত চলছে মুড়ি ভাজার কাজ।
জানা গেছে, জেলার গলাচিপা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কিসমত মৌকরন, মুরাদিয়া, লোহালিয়া গ্রামের কয়েকশ পরিবার মুড়ি ভেজে জীবিকা নির্বাহ করে। মুড়ি ভাজার মূল ভূমিকায় থাকেন একজন নারী যাকে পরিবারের অন্য সদস্যরা সহায়তা করেন।
সদর উপজেলার লোহালিয়ার ৩নং ওয়ার্ডের সিমা রানী সাহা জাগো নিউজকে বলেন, আমার মার কাছ থেকে মুড়ি ভাজার কাজ শিখেছি। তাই মুড়ি ভাজার কাজের সঙ্গে মিশে গেছি। মুড়ি ভাজতে ভালো লাগে।
মুড়ি ভাজার কৌশল
মুড়ি ভাজাতে হলে মাটির তৈরি চার চোখ ওয়ালা চুলা, হাড়ি, পাতিল, কুচি, ডালা ও সাজির মত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের প্রয়োজন আছে। প্রথমে মোতা মোটা ধানের চাল লবন পানির সঙ্গে মিশিয়ে মাটির পাত্রে ১৫ মিনিট চাল ভাজার পাশাপাশি অন্য পাতিলে বালির মিশ্রণ গরম করতে হয়। এক্ষেত্রে ৫০ কেজি চালের বস্তার জন্য এক কেজি লবন প্রয়োজন হয়। এরপর মাটির অন্য পাতিলের মধ্যে গরম বালি ঢেলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে লবন পানি মেশানো ভাজা চাল ঢেলে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড নারাচরা করলে তৈরি হয় মুড়ি।
মুড়ির বাজার দর
মুড়ির কারিগরদের কাছ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চার হাজার টাকায় ৫০ কেজির এক বস্তা মুড়ি ক্রয় করেন। স্থানীয় বাজারে ৫০ কেজি মুড়ি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৭৫০ টাকায়। আর খুচরা মুড়ি একশ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে।
স্থানীয় মুড়ি ব্যবসায়ী উজ্জল সাহা জাগো নিউজকে বলেন, হাতে ভাজা মোটা মুড়ির জনপ্রিয়তা ও কদর সব সময় ছিল। কিন্তু মেশিনে ভাজা মুড়ির কারণে কিছুটা বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ফলে কারিগরদের কম মূল্যে মুড়ি বিক্রয় করতে হয় আর করিগররাও কম টাকা পাচ্ছেন।
মুড়ি তৈরির কারিগর পঙ্কজ চন্দ্র সাহা জাগো নিউজকে বলেন, এই পেশার সকলে ভোর ৫টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মুড়ি ভাজার কাজ শেষ করেন। একদিনে কেউ ৫০ কেজি আবার কেউ ১০০ কেজি চালের মুড়ি ভাজতে পারেন।
এসময় কথা হয় মুড়ি তৈরির কারিগর সত্য সাহা ও উত্তম সাহার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের হাতে ভাজা মুড়িতে কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ করা হয় না। তাই আমাদের এলাকার মুড়ি সুস্বাধু ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/পিআর