দেশজুড়ে

ঈশ্বরদীতে নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে ভূমিমন্ত্রী

সাম্প্রতিক সময়ে ঈশ্বরদীতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় শনিবার নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সকল আলোচক ওই দু’জন নেতার তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।

ঈশ্বরদীতে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা ভাঙচুর এবং ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ও ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পর আলোচিত সেই ঘটনা নিয়ে এবার দলীয় নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়লেন ভূমিমন্ত্রী ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

গত ১৮ মে হামলা-ভাঙচুরের পর ৩ জুন শনিবার ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মিলনায়তনে পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ বাবু ও শহীদুল ইসলাম। ঈশ্বরদীর আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক অসংখ্য নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে পাল্টাপাল্টি ভাঙচুরের ঘটনার জন্য ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ও পৌর মেয়র মিন্টুকেই দায়ী করে বক্তব্য দেন তৃনমূল নেতাকর্মীরা।

নেতাদের মধ্যে আব্দুল খালেক, আতাউর রহমান বাবু ফকির, জুলহাস উদ্দিন, আজিজুর রহমান চঞ্চল, আবুল হাশেম, গোলবার হোসেন, হায়দার আলী, শিমুলসহ ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ বক্তব্য দেন।

সভা শুরুর পরপরই ঈশ্বরদীতে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত হামলা ভাঙচুর, মন্ত্রীর ছেলেসহ যুবলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন নেতারা। এসময় সকল বক্তাই এসবের জন্য ভূমিমন্ত্রী আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ ও তার জামাতা ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকেই দায়ী করেন।

সভায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, মুখে কাপড় বেঁধে যারা দোকান ও বাড়িতে ভাংচুর করেছে এবং ইতোপূর্বে প্রকাশ্যে যারা ভাঙচুর করেছে তাদের কাউকে দলে রাখা হবে না।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, ওই দিন কারা হামলা-ভাঙচুর করেছে তা পৌরসভার সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে, ফলে সন্ত্রাসী যেই হোক তার বিচার হবে।

আলাউদ্দিন আহমেদ/এফএ/জেআইএম