কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্পের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৭টি মামলা দায়ের করেছে দুদক।চট্টগ্রামের দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক শফি উল্লাহ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে উখিয়া থানায় এসব মামলা দায়ের করেছেন। এ খবর প্রচার হওয়ার পর থেকে উখিয়ায় সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় রাস্তা মেরামত, মাঠ সংস্কার, কবরস্থান সংস্কারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু, ৭টি প্রকল্পের আওতায় কাজ না করে ভূঁয়া কাগজপত্র দেখিয়ে প্রকল্পের মোট ৫০ লক্ষ ১৫ হাজার ৪৪২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিকদার দুদকে অভিযোগ দেন গত বছর।অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক কর্মকর্তারা গত বছরের ২০, ২১, ২২ অক্টোবর উখিয়ার ৫ ইউনিয়নের ৫৯টি প্রকল্পের মধ্যে ২০টি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তদন্ত টিম স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেন এবং প্রকল্প পরিমাপ করে কাজের সাথে প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট বাস্তবসম্মত কোনো প্রমাণ পায়নি। এতে তদন্ত কমিটি ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তদন্ত কমিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অধীনে বাস্তবায়িত ননকস্টের টাকায় উন্নয়ন কাজের কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানায়।তদন্ত দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রায় ৬ মাস পর মঙ্গলবার রাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক শফি উল্লাহ বাদী হয়ে ৭টি মামলা দায়ের করেন।মামলায় আসামি করা হয়েছে জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবু তাহের, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা ফজল কাদের ভুট্টো, শেখ হাবিবুর রহমান, আব্দুস শুক্কুর, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা মোরশেদ আলম, সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম শাকিব, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের ফিল্ড সুপার ভাইজার জামাল উদ্দিন, সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার যথাক্রমে উখিয়া রির্সোস সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর অশোক কুমার আচর্য, সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। মামলায় বেশিভাগই ক্ষমতাসীন দলের ইউপি সদস্যের নাম রয়েছে।চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক শফি উল্লাহ বলেন, তদন্তে অর্ধকোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় মামলা করা হয়েছে। উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/আরআই