কুড়িগ্রাম জেলার সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মি সড়কের বেহালদশায় জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শত শত খানা-খন্দের কারণে মাদারগঞ্জ, সোনাহাট, চরভুরুঙ্গামারী, বলদিয়া, নারায়ণপুর, তিলাইসহ ১০টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পড়েছে দুর্ভোগে। প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।
এতে করে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে সোনাহাট স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহন। দীর্ঘদিনেও রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও পরিবহন শ্রমিকরা সম্প্রতি রাস্তার উপর গাছ কেটে ফেলে এবং মালবাহী ট্রাক্টর রেখে অবরোধ সৃষ্টি করে।
আন্দোলনকারীদের নেতা সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই দাবি করেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার পরও দীর্ঘদিনেও দাবি পূরণ হয়নি। তাই রাস্তার সংস্কার শুরু না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সোনাহাট স্থলবন্দর লোর্ড-আনলোর্ড শ্রমিক সমিতির সভাপতি তবিজ উদ্দিন জানান, সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই খানা-খন্দগুলো পানিতে ভরে থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এ পথে চলাচলকারী ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ভারী যানবাহনগুলো প্রায় প্রতিদিনই খাদে আটকা পড়ছে। ফলে মালামাল পরিবহনে বেড়েছে ব্যয়। এই রাস্তা ব্যবহার করে কচাকাটা থানা, সোনাহাট স্থলবন্দর, সোনাহাট বিজিবি ক্যাম্প এবং ১০টি ইউনিয়নের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ায় এলাকার মানুষ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক ও জহুরুল ইসলাম বলেন, এ সড়কে চলাচল করতে গেলে জীবন বাজি রেখে চলতে হয়। এ দুর্ভোগের সমাধান চাই।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী এ বি এম খুরশিদ আলম রাস্তার বেহাল দশার কথা স্বীকার করে জানান, ১০ কিলোমিটার রাস্তা নতুন করে করবার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেলাল-সাজু কনস্ট্রাকশনকে গত ১৫ মে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। প্রস্তুতি স্বল্পতার কারণে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সকল খানা-খন্দ পূরণ করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে তিনি জানান।
নাজমুল/এমএএস/জেআইএম