প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ও তার লোকজনের হামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত চারজন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চরাঞ্চল নারায়নপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়নপুর চৌদ্দঘুড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মজিবর রহমানের দুর্নীতিতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শীর্ষক আলোচনায় বসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এ খবর পেয়ে চেয়ারম্যান, তার ভাই আজিজার রহমান, শাহালম, রাসেল মিয়া, সারোয়ার হোসেন, চাচাত ভাই হায়াত আলী, মামুনসহ ১৫-২০ জন আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে গালিগালাজ করে।
এ সময় চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করলে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানায়। এতে চেয়ারম্যানের লোকজন আরো ক্ষীপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালায়।
এসময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান (৪২), মোশারফ হোসেন (৪৮), আব্দুল মান্নান (৩৫), শাহাদৎ হোসেনসহ (৫০) ১০ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত এ চারজন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক মশিউর রহমানের ছোট ভাই শাহালম বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে কচাকাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে দু’জনকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে আহত মশিউর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান মজিবর রহমান সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে সরকারি বরাদ্দের সবকিছু আত্মসাৎ করে আসছেন। নেতাকর্মীরা এ নিয়ে আলোচনায় বসলে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করলে তার প্রতিবাদ করায় তারা হামলা চালায়। আগে থেকে তাদের সন্ত্রাসী দলের সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতি ছিল।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে আসছে তারা। ঘটনার দিন ওরা এগিয়ে আসলে আমার ভাই, আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির উল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আব্দুস সালাম ও সারোয়ার হোসেন নামের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নাজমুল হোসেন/এফএ/পিআর