আদালতের আদেশে ভৈরবে সোমবার দুপুরে নিহত হাবিবুর রহমানের লাশ পৌর কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। নিহতের ভাই আয়ূব হোসেন গত ১৭ মে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল আদালতে অভিযোগ করেন, গত ১ মে রেলওয়ের ১১ জন পুলিশসহ মোট ১৯ জন আসামি তার ভাইয়ের ১৭ লাখ টাকা আত্নসাৎ করতে তাকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করে। ঘটনার সময় ভৈরবের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান চট্টগ্রাম থেকে মেঘনা আন্তঃনগর ট্রেনে উঠে চাদঁপুর যাচ্ছিলেন।
তিনি চট্টগ্রামে মানি একচেঞ্জের ব্যবসা করতেন। তার বাড়ি ভৈরব পৌর এলাকার ভৈরবপুর উত্তর পাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত নজরুল ইসলাম।
ওইদিন ট্রেনটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছলে রেলওয়ে পুলিশ যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে। এসময় হাবিবুর রহমানের ব্যাগে পুলিশ দেশি-বিদেশি টাকা দেখে তাকে বাথরুমের কাছে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তার টাকার ব্যাগটি পুলিশ জোর করে ছিনিয়ে নিতে চাইলে সে বাধা দেয়। এসময় পুলিশ তাকে মারধর করে ট্রেন থেকে বারবকুণ্ড এলাকায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ঘটনাটি ওই এলাকার একজন দেখে ফেলে বলে বাদী জানায়।
পরে পুলিশ প্রচার করে সে ট্রেনে কাটা পরে মারা গেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তার লাশ তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পুলিশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বলে বাদী অভিযোগ করেন। তারপর তার ভাই মামলার বাদী দুই সপ্তাহ খোজঁ নিয়ে জানতে পারে রেলওয়ে পুলিশ ১৭ লাখ টাকা আত্নসাৎ করতেই তাকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়।
আদালতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচারক মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভিস্টিকেশনকে ( পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই এর পুলিশ পরিদর্শক মামলার তদন্তকারী অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গত ২৫ মে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। এই আদেশের প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর আড়াইটায় তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভৈরব পৌর কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলন করার সময় ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চিত্রা শিকারী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, বাদী অ্যাডভোকেট আয়ূব হোসেন, ভৈরব থানার পুলিশ ও স্থাননীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক/এমএএস/জেআইএম