দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে দখলকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও বন বিভাগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন বিভাগ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সোমবার দুপুর ১২টায় এ ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুর বন বিভাগের বিরামপুর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, হরিপুর ফরেস্ট বিটের অধীনে হরিপুর বুড়িমন্ডব নামক স্থানে বন বিভাগের জমিতে আব্দুর রহিমের ছেলে মাসুদ রানা অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে। স্থাপনাটি করতে গিয়ে দখলকারীরা বনের গাছ কেটে ইটের বাড়ি তৈরি করে। সোমবার ওই স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে সংর্ঘষ হয়।
হরিপুর বিটের অতিরিক্ত দায়িত্ব বিট কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার জানান, সোমবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে দখলকারীরা পুলিশসহ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল হাকিম আজাদের বাম হাত ভেঙে দেয়।
অপর আহতরা হলেন দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান, মধ্য পাড়া ফরেস্ট রেঞ্জের কর্মকর্তা রঞ্জিবুল আমিন, কুশদহ বিটের ফরেস্টার গোলাম (৫৭), বাগান মালি শ্রী কিনারাম বর্মন (৫০), বন প্রহরী মোজাফফর হোসেন, বাগান মালি ফারাজ উদ্দিন, হরিপুর বিট কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার।
অপরদিকে, দখলকারীদের পক্ষে মাসুদ আলীর স্ত্রী শিল্পী (২৫) ও কোরবান আলীর স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০) আহত হয়েছেন। আহতরা নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হাকিমের হাত ভেঙে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. বজলুর রশীদ ও বিরামপুর সার্কেলের এএসপি হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে যান।
এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম