‘হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অর্জিত সুনাম ও একাডেমিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য চক্রান্ত শুরু হয়েছে। নতুন উপাচার্য কী মিশন নিয়ে এসেছেন তা বুঝতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বিভক্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার যে কোনো ষড়যন্ত্র সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে।’
বুধবার দুপুরে হাবিপ্রবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায় লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে যোগদানকারী উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেমের প্রত্যক্ষ মদদে সাবেক ভিসি ও শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর মো. রুহুল আমিনের কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বিএসসি এগ্রিকালচার অ্যান্ড এগ্রি বিজনেস অনার্স কোর্সের কিছু সংখ্যক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ভিসির মদদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইন্ধনে হামলা চালিয়ে সাবেক প্রক্টর প্রফেসর এটিএম শফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর মো. আনিস খানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এমনকি সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিনের ওপরও হামলা চালিয়ে তার মোবাইল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়।
উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা কক্ষ ভাঙচুর করেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং হামলাকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকদের চরমভাবে অসম্মান করছেন। অবিলম্বে শক্তিশালী তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ১১ জুনের সংঘটিত হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।
শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষকদের মূল কাজ পাঠদান করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের মদদে যদি শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় তাহলে শিক্ষার পরিবেশ থাকে কিভাবে? নতুন ভিসি নিশ্চয় কোনো মিশন নিয়ে এসেছেন এবং সেই মিশনের উদ্দেশ্য-লক্ষ্য ক’দিন পরেই জানা যাবে। হাবিপ্রবির অর্জনকে নষ্ট করার জন্য কতিপয় শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্ত প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম কোনভাবেই মেনে নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে অধ্যাপক ড. আনিস খান, অধ্যাপক ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ, অধ্যাপক বিধান চন্দ্র সরকার, অধ্যাপক মামুনুর রশিদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. ফেরদৌস মেহেবুব এবং সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
এর আগে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাবেক ভিসি রুহুল আমিনের কক্ষ ভাঙচুর ও শিক্ষক নির্যাতনের বিচার দাবি করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/পিআর