শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শরীয়তপুর পৌরসভার আংগারিয়া বড় ব্রিজের পূর্বপাশ থেকে সখিপুর থানার ইব্রাহিমপুর ফেরি ঘাট পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা হয়ে আছে।
বিশেষ করে আংগারিয়া, মনোহর বাজার, বালার বাজার, বুড়িরহাট, সাজনপুর, ভেদরগঞ্জ, নারায়নপুর, ডিএমখালি, চরসেনসাস এলাকায় সড়কে ভোগান্তিতে চলাচল করতে হচ্ছে।
এসব এলাকার সড়কগুলোতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের অধিকাংশ স্থানে পিস উঠে যাওয়ায় যানবাহন যাওয়ার পর ধুলাই আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন সময় প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনাও ঘটে। তিন বছর ধরে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন।
যাতায়াতের একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি তড়িঘড়ি করে পিসের উপর ইটের সলিং করে দায়সারাভাবে চলাচলের উপযোগী করায় এলাকাবাসী বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাইওয়ের এই সড়কটি আরসিসি ঢালাই কিংবা পিস মজবুত কার্পেটিং হওয়ার কথা থাকলেও তা পিস থেকে রূপ নিয়েছে ইটের রাস্তায়। টানা বর্ষায় সড়কের আংগারিয়া বড় ব্রিজের পূর্বপাশ থেকে ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড়বড় খানা-খন্দ হওয়ায় প্রায়ই গাড়ি বিকলের সঙ্গে সঙ্গে ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আর বাস, ট্রাক সড়কের গর্তে পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানযটের।
সড়ক ও জনপদ জেলা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের শরীয়তপুর পৌরসভার আংগারিয়া বড় ব্রিজের পূর্বপাশ থেকে সখিপুর থানার ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক। ঢাকার যানজট এড়াতে দূরত্ব ও সময় যাতে কম লাগে তাই ২০০০ সালে এ আঞ্চলিক সড়কটি চালু হয়।
তখন থেকেই এই সড়ক দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলাচল শুরু করে। তিন বছর ধরে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন। তিন বছরে সড়কটি সংস্কারে ২৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তারপরও সড়কটির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা।
শরীয়তপুর পৌরসভার বাসিন্দা রাজিব হোসেন রাজন বলেন, আমি একজন মেডিকেল প্রমোশন অফিসার। প্রতিদিন এই সড়কটি দিয়েই আমার যাতায়াত। দুঃখের বিষয় তিন বছর যাবত সড়ক ও জনপদের সড়কটির এই অবস্থায় আছে। মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না তারা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ দাস গুপ্ত বলেন, বড় কোনো প্রকল্প না থাকায় ইটের সলিং দিয়ে বড় গর্তগুলো মেরামত করা হচ্ছে। যাতে করে বাস, ট্রাক আটকে যানযটের সৃষ্টি না হয়। এ সমস্যার সমাধানে বড় আকারের প্রকল্প নিয়ে সড়কটি নতুনভাবে তৈরি করতে হবে। আঞ্চলিক এ মহাসড়কটি প্রতিবছর মেরামত করা হলেও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়।
মো. ছগির হোসেন/এফএ/এমএস