নীলফামারীর ডিমলায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় জমছে পানি, খানাখন্দে ভরা রাস্তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। সুটিবাড়ী ডালিয়া সড়কের ৩ কিলোমিটার ও ডিমলা ডোমার যাওয়ার রাস্তায় ৫ কিলোমিটারসহ ৮ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে যাত্রীদের বেশি ভাড়াও গুণতে হচ্ছে।সুটিবাড়ি ডালিয়া সড়কের তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ বছর ধরে চলছে রাস্তার বেহাল অবস্থা। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলা শহর থেকে সুটিবাড়ি- ছোটখাতা হয়ে ডালিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার অতিক্রম করে ওই পথে রংপুর, লালমনিরহাট, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম ও বুড়িমারি যাতায়াত করতে হয় ওই এলাকার মানুষজনকে। এ রাস্তায় প্রতিদিন চলাচল করে ৬টি ঢাকাগামী কোচ, একটি বিআরটিসি কোচ ও সুঠিবাড়ি থেকে রংপুর চলাচল করে ১২টি যাত্রীবাহী বাস এবং শতাধিক মালবাহি ট্রাক, মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশাসহ অসংখ্য যানবাহন।একজন যাত্রী জানান, আগে রংপুর থেকে একটা কার্টুন আনতে ভাড়া পড়তো ২০ টাকা। এখন রাস্তা ভাঙার কারণে ৫০ টাকা দিতে হয়। ২ বছর ধরে এ অবস্থা চলছে, কিন্তু সরকার রাস্তা মেরামতের কোনো উদ্যেগ নিচ্ছে না। সুটিবাড়ি গ্রামের মানিক জানায়, বর্তমানে সুটিবাড়ী বাজার থেকে ওই পথে ঢাকার ছয়টা যাত্রীবাহি বাস, একটা বিআরটিসি এবং সুঠিবাড়ি রংপুর আধা ঘণ্টা অন্তর যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। মালবাহি ট্রাকও চলে শতাধিক। এ ছারা জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যেতে চরম বিরম্বনায় পড়তে হয়। অনেক সময় বিকল্প পথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরে যেতে হয়।কিন্তু ওই সড়কের ছোটখাতা এলাকায় তিন কিলোমিটার পথ খানাখন্দে ভরে থাকায় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ওই পথের যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের। রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় ওই সড়কের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। বৃষ্টির পানি ও কাদামাটিতে একাকার হয়ে আছে গোটা সড়ক।ছোটখাতা গ্রামের সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তাটা ভয়াবহ গর্তে পরিণত হয়েছে। রাস্তা খারাপের কারণে এখন বাস চলাচল কমে গেছে, ভাঙা রাস্তার জন্য প্রতিনিয়ত গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটেছে, প্রায় দেড় দুই বছর ধরে এ অবস্থা চললেও দেখার কেউ নেই। যাতায়াত করতে ভাড়াও বেশি লাগছে।ডালিয়া বাজারের ট্রাক বন্দোবস্তকারী আবুল কাশেম (৩৫) জাগো নিউজকে বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে প্রায় ট্রাকের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, চাকা ফেঁসে যাচ্ছে, আবার কখনো মালামালসহ ট্রাক উল্টে যাচ্ছে। এ কারণে ওই পথে ট্রাক যেতে চায় না। যে কাজ সহজে হতো, সেই কাজ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন এই পথে শতাধিক ট্রাক পাথর বালি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। রাস্তাটা সংস্কার করা খুবই জরুরি।ট্রাক চালক আবুল কালাম (৪০) জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তার যে অবস্থা তাতে বেশি ভাড়ায়ও পোশায় না। একবার ফেঁসে গেলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ধরা খেতে হয়।এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যেতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেক সময় বিকল্প পথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হয়। ডিমলা থেকে লালমনিরহাট, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী যাওয়ার এটাই একমাত্র সড়ক। এছাড়া ডিমলা সদরের শহীদ মিনার দিয়ে (ডোমার-ডিমলা) সড়কটির ডিমলা অংশের প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের অভাবে অচল হয়ে পড়ছে।উল্লেখ্য ২০১০-১১ অর্থ বছরে সদর হতে নীলফামারী ও ডোমারের সাথে ডিমলার দূরুত্ব কমিয়ে আনতে সড়কটি নির্মাণ করে এলজিইডি। ৫ বছরে সড়কটির সংস্কার না করায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে ছোট বড় সব ধরনের যান চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে বেহাল দশায় পড়ছে।ডিমলা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিকরুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, সুটিবাড়ী ডালিয়া সড়কটির তিন কিলোমিটার সংস্কার করা জরুরি, কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ওই পথে অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৫০ টন মালামাল নিয়ে ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেখানে অনেক গর্ত হয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছরে ডাব্লুবিএম ও কার্পেটিং করতে হবে। এতে খরচ হবে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।নীলফামারী-১ (ডোমার- ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার জাগো নিউজকে বলেন, মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের কারণে সেখানে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিল। আমি স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, আশা করছি আগামী অর্থ বছরের শুরুতে কাজটি শুরু করা যাবে। তিনি বলেন, এখন মেরামত করতে যদি এক কোটি টাকা লাগে, এক বছর পর ওই কাজ করতে গেলে দুই কোটি টাকা লাগবে।জাহেদুল ইসলাম/এমজেড/আরআই