দেশজুড়ে

স্বামী অনৈতিক কাজে বাধ্য করায় ঘর ছাড়লেন গৃহবধূ

শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি করা যৌতুক দিতে না পারায় অনৈতিক কাজে বাধ্য করায় স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়েছে এক গৃহবধূ। যৌতুকের জন্য ওই গৃহবধূর ওপর নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ডে বসে প্রতিবেদকের সঙ্গে এমন নির্দয় ও বিভীষিকাময় কাহিনী বর্ণনা দেন ঢাকার জয়দেবপুর থেকে পালিয়ে আসা কিশোরী সুলতানা আক্তার। তার পৈত্রিক বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বৈদারাপুর গ্রামে।

সুলতানা আক্তার বলেন, মা মারা গেছেন ৪ বছর আগে এবং বাবা মারা গেছেন ২ বছর আগে। বাবা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি এবং মা ছিলেন গৃহিণী। সংসারে আমরা দুই ভাই-বোন। আমি সবার ছোট। অভাবী সংসারে ভাই পূর্বেই ঢাকার জয়দেবপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছেন। বৈদারাপুরের একটি মাদরাসায় ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি আমি।

এরপরে ভাই আমাকে তার সঙ্গে নিয়ে যায়। আমিও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতাম। স্থানীয় ফারুক হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন আমাকে দেখে পছন্দ করে। সে তার পরিবার নিয়ে আমাকে বিয়ে করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। ভাই ছেলে পক্ষের পারিবারিক অবস্থা ভালো দেখে ওখানে বোনকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগদ ১০ হাজার টাকা, লেপ-তোষকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে পাত্রস্থ করেন। জন্মসনদে ১৯৯৭ সালের ৫ ডিসেম্বর তারিখ অনুযায়ী তখন আমার বয়স ১৮ বছর। এরপর তারা আমাকে দিয়ে সংসারের সব ধরনের কাজই করাতো। আমিও আমার নিজের সংসার বুঝে গাধা মতো খাটতাম।

এরপর তারা আমার ভাইয়ের কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ভাইয়ের পক্ষে ৩ লাখ টাকা দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। তারপরেও সে আমার সুখের কথা ভেবে ১ লাখ টাকা দিতে স্বীকার করে। তাতে আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন রাজি না হয়ে আমার ওপর শুরু করে পাশবিক নির্যাতন।

খবর পেয়ে ভাই আমাকে নিতে আসলে তাকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। কয়েকদিন পরে আমাকে পার্লারে নিয়ে জোর করে চুল কেটে, ভ্রু-প্লাক এবং ফেসিয়াল করে, জিন্সপ্যান্ট ও শার্ট পরানোর জন্য বাধ্য করে। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় আমার স্বামী বেধড়ক মারধর করে।

এর পরের দিন আমাকে বেড়াতে নেয়ার কথা বলে এক যুবকের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ওই যুবক এবং আমাকে এক রুমে রেখে দরজা আটকে দিলে আমি ভয়ে চিৎকার দেই। তাই আমাকে দিয়ে আর অনৈতিক কাজ করানো সম্ভব হয়নি। আমাকে বাসায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে।

একপর্যায়ে আমি বেহুশ হয়ে পড়ি। জ্ঞান ফেরার পরে স্বাভাবিকভাবে আবার সংসারের কাজকর্ম করতে শুরু করি। পাশাপাশি কী করবো এমন চিন্তুা করে প্রতিবেশী এক মহিলার কাছে পরামর্শ জানতে চাইলে তিনি বাচতে হলে এখান থেকে পালিয়ে যেতে হবে। এছাড়া তোমার বাঁচার আর কোনো পথ নেই।

শ্বশুর বাড়ির লোকজন অনেক খারাপ মানুষ বলে পরামর্শ দেন ওই প্রতিবেশী মহিলা। শনিবার সকালে সুযোগ বুঝে গায়ে পরিহিত কাপড় ও জন্মসনদ নিয়ে পালিয়ে বের হই। কোনো টাকা না থাকায় মানুষের হাত-পা ধরে ঝালকাঠি পর্যন্ত এসেছি। এখন বৈদারাপুরে পৌঁছতে পারলে সেখানে মামা আছে, তার কাছে গেলে আশ্রয় পাব।

মো. আতিকুর রহমান/এএম/জেআইএম