দেশজুড়ে

বাবার চেহারাটাও মনে নেই মুসা-তৌফিকের

‘আব্বাকে শেষ কবে দেখেছি মনে নেই। চেহারাটাও মনে পড়ে না। আব্বাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। ডাকতে ইচ্ছে করে। কোলে উঠতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আব্বা বেঁচে নেই। মাঝে মধ্যে খুব কান্না পায় কিন্তু কী করব।’

জাগো নিউজের সঙ্গে এমনিভাবে কথাগুলো বলছিল সাতক্ষীরার আমতলা এলাকায় হালিমা শিশু সদনে থাকা এতিম শিশু আবু মুসা ও তৌফিক ইসলাম।

দশ বছর বয়সী আবু মুসা জানায়, আব্বা কবে মারা গেছে মনে নেই। পরে শুনেছি তখন আমি খুব ছোট। খুব মনে পড়ে। আব্বার চেহারটাও মনে নেই।

আবু মুসার বাড়ি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চাকুন্দিয়া গ্রামে। মৃত. আব্দুল মন্সির ছেলে। মা লিলি বেগম মাঝে মধ্যে এতিমখানাতে দেখতে আসেন মুসাকে। পরিবারের অভাব অনটনের দায়ে একদিন মা মুসাকে এতিম খানায় রেখে যান।

ছয় বছর বয়সী তৌফিক ইসলামের গল্পও ঠিক একই রকম। বাবা বেঁচে নেই তারও। চার বছর আগে মারা যায় বাবা নূর ইসলাম। তখন তৌফিকের বয়স দুই বছর। বাবার চেহারা কেমন ছিল বলতে পারে না তৌফিক। মা মাশফুরা বেগম সাতক্ষীরা শহরের তালতলা এলাকার বাসিন্দা।

তৌফিক ইসলাম জানায়, যখন আব্বা মারা যায় তখন আমি খুব ছোট। পরে আমারে এতিমখানায় দিয়ে গেল মা। আব্বা বলে কাউকে ডাকতে পারি না। মনটা খুব খারাপ হয়।

ঈদে নতুন পাজামা, পাঞ্জাবি, টুপি, জুতা দেয়া হয়েছে জানিয়ে হালিমা শিশু সদনের তত্ত্বাবধায়ক মো. আমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এখানে ১২ জন এতিম শিশু রয়েছে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না এদের। তৌফিক ও মুসার বাবা নেই। তাদের এখানে কোনো সমস্যা হয় না। চেষ্টা করি সবসময় তাদের ভালো রাখার।

আকরামুল ইসলাম/বিএ/পিআর