পিরোজপুর লাহুরী গাজীপুর সড়কের ঝনঝনিয়া খালের উপর থাকা সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। এর মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রকৌশল শাখায় খোঁজ নিতে গেলে উপসহকারি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দুই যুগ আগে ঝনঝনিয়া খালের উপর ১৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে ঝনঝনিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আকরাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি সেতুর উত্তর পাশে বসে একটি অটোরিকশায় কলা তুলছিলেন। সেতুটি নিয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সেতুর দক্ষিণ পার্শ্বে আমার বাড়ি। বাগানের কলা কষ্ট কইরা আইন্না গাড়িতে উঠাইতেছি। পোলডা (সেতু) ঠিক থাকলে এ ভোগান্তিতে পরতে অইতো না। তিনি আরো বলেন, আমার মতো অনেকেই এরকম ভোগান্তিতে আছে। আজমল নামে আরকজন জানান, তিন বছর আগে সেতুটি প্রথমে দেবে যায়। পরে তা ভাঙতে শুরু করে।এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সেতুটি এখন আমাদের কাছে মৃত্যুকূপ। প্রতিদিনই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালক মনির হোসেন বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিংরাখালি, বৌলপুর, জামুয়া, জিয়ানগর উপজেলার প্রায় ৫ হাজার লোকজন চলাচল করে। ঝনঝনিয়া সেতুটি বেহাল থাকা কারণে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেক মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, টেম্পু সেতু পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র মুন্না জাগো নিউজকে বলেন, বর্ষাকালে ঝনঝনিয়া ভাঙা সেতু পার হতে গিয়ে স্কুল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী খালে পড়ে আহত হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের ১নং ঝনঝনিয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ. হামিদ সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা থাকার কারণে লোকজনের অনেক তীর্যক কথা শুনতে হয়। শংকরপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন মল্লিক স্বপন জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ থেকে সেতুর পাশে একটি বাঁশের সাকো করে দেয়া হয়েছে লোকজনের পারাপারের জন্য। চেষ্টা করছি যাতে অল্প সময় এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা যায়। সেতু নির্মিত হলে মানুষের ভোগান্তি আর থাকবে না। পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ঝনঝনিয়া খালের উপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ হাতে নেয়া হবে। হাসান মামুন/এমজেড/এমএস