হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বন্যা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি কমে বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে।
গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছিল। উজানে ভারতে বৃষ্টিপাত থেমে যাওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢল না আসায় নদীর পানি মঙ্গলবার বিকেল থেকে কমতে শুরু করে।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় ভাটি অঞ্চলের সঙ্গে জেলা সদরের নৌ-যোগাযোগ স্বাভাবিক হচ্ছে। অপরদিকে নদীর পানি কমলেও শহরের উত্তরাংশে খোয়াই নদীর তীরবর্তী কামড়াপুর, বগলা বাজার, গরুর বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্ক কাটেনি। তবুও ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়া লোকজন ফের বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
কামড়াপুর এলাকার বাবুল কুড়ি জানান, বাঁধের দুর্বল স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করে তার ঘর নিমজ্জিত হয়। বাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে তিনি পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেন। ঘরে এখনও পানি থাকায় নিজে শুকনো খাবার সংগ্রহ করছেন।
একই এলাকার আব্দুল আওয়াল জানান, যদি বাঁধ এদিকে ভেঙে যেতো তাহলে পুরো এলাকা আরও একটি নদীতে পরিণত হতো। জীবনের ঝুঁকিতে ছিল এ এলাকার ৩/৪শ পরিবার। তিনি বলেন, এখনও আমরা আতঙ্কে আছি। আবারও যদি নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়, তবে বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তিনি জরুরীভিত্তিতে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টায় পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেছে। এখন আর ঝুঁকি নেই। আর নদীর বাঁধের যেসব স্থান ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, ভাটি এলাকায় অবস্থিত খোয়াই নদীর ডুবন্ত বাঁধের বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ সাঙ্গর, শাহপুর ও বড়কান্দি এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়। এসব ভাঙন দিয়ে খোয়াই নদীর পানি হাওরে ছড়িয়ে পড়ায় নদীর পানি দ্রুত হ্রাস পায়।
উল্লেখ্য, খোয়াই নদীর পানি গত রোববার রাতে আশঙ্কাজনভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সোমবার রাতে নদীর পানি বিপদসীমার ২৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনের গুজব ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে উঠেন শহরবাসী। ভয়ে ছুটতে থাকেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের গরুর বাজার নৌকা ঘাট থেকে চৌধুরী বাজার বেইলী ব্রিজ পর্যন্ত এবং মাছুলিয়া, শায়েস্তানগর, তেতৈয়া এলাকায় অন্তত ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। এ স্থানগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষা করেন।
এদিকে নদীর পানি কমে যাওয়ায় বুধবার থেকে নদীতে নৌ-যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নদী দিয়ে চলাচলকারী বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলার ভাটি এলাকার গ্রামগুলো এবং কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত আবারও শুরু হয়েছে। নৌকাযোগে বছরজুড়েই তারা নদী দিয়ে হবিগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে থাকেন।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমএএস/পিআর