বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় হতে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কারণে যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনগুলো লম্বা লম্বা সারিবদ্ধ হয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কয়েকটি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে থেমে থেমে যানজট।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪ জেলাসহ ২০টি জেলার হাজার হাজার গাড়ি প্রতিদিন এখান দিয়ে চলাচল করে।ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এতে মালামাল পরিবহন ও যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, একটি গাড়ি দাঁড়ালে বা ছোট কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই উভয়পাশে এক মিনিটের মধ্যেই এক থেকে দেড় কিলোমিটার সড়ক জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের পাশে হাট-বাজার, মহাসড়ক ঘেঁষে হোটেল রেস্তোরা স্থাপন, সরু ব্রিজ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, চারলেন সড়ক না হওয়া, ধীরগতিতে ট্রাক ও লরি চলাচল, ওভার টেকিং, সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দ ও তা মেরামতের জন্য সড়কের এক পাশ বন্ধ রাখাই এ যানজটের প্রধান কারণ বলে মনে করছে তারা।
শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী সাদিয়া আফরোজ বলেন, আমি ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছি। সারা রাস্তা ভালোই চলছিল গাড়ি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে প্রচুর পরিমাণ গাড়ি সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। তবুও নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরছি।
সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের টিআই মিলাদুল হুদা জানান, এমনিতেই বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেশি থাকে। তারপর ঈদকে সামনে রেখে শিল্পকারখানার ছুটি হওয়ায় নাড়ীর টানে বাড়ি ছুটছে মানুষ। তাদের বহন করা বাস মহাসড়কে উঠায় কয়েকটি পয়েন্টে দেখা দেয় থেমে থেমে যানজট। তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ও গাড়ি বিকল হওয়ায় যানবাহনের লম্বা সারি সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচল করে ধীরগতিতে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাক ও লরিগুলোর ধীরগতি এবং দ্রুতগতির যানবাহনগুলোর ওভারটেক করার কারণেই মূলত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া, বৃষ্টির কারণে এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব খানাখন্দ মেরামত করতে গিয়েও কিছুটা ঈদে ঘরমুখী মানুষদের কিছুটা যানজটে পড়তে হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/এমএস