দেশজুড়ে

মির্জাপুরে নদীপাড় ও সেতুতে বিনোদন প্রেমীদের ঢল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় নেই সরকারি বা বেসরকারি কোনো বিনোদনকেন্দ্র। নেই কোনো পার্ক, এমনকি কোনো সিনেমা হলও। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।

বাধ্য হয়ে ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে এখানকার মানুষ মনের খোরাক মেটাতে ও ঘুরতে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয় নদীর পাড়, সংলগ্ন সেতু ও সবুজাচ্ছাদিত জায়গা। এবারো পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে নদীর পাড় ও সেতুকেই বেছে নিয়েছেন তারা।

আনুষ্ঠানিক কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় ঈদে মির্জাপুরের মানুষ বংশাই নদীর ত্রিমোহন, লৌহজং নদীর পাহাড়পুর সেতু ও নবনির্মিত খাটিয়ার ঘাট-কালিয়াকৈর সড়কের কবিরকুড়ি ব্লকের স্থানে সময় কাটাতে ভিড় করেছেন।

ঈদ উপলক্ষে তাই বেশ সরগরম ছিল সেতু দুটিসহ কবিরকুড়ি ব্লক এলাকা। এখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে আসা মানুষ সেতুপাড়ের বর্ষাস্নাত প্রকৃতি, মনোরম দৃশ্য এবং পাহাড়ি এলাকায় বিশাল চকের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নবনির্মিত সড়ক দেখে মুগ্ধ হন।

অস্থায়ী বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠা এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। তবে ঈদ উৎসবে এবার দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং পিকআপযোগে প্রতিদিনই বিকেলে বিনোদনপিয়াসী মানুষ এসেছেন।

ঈদের দিন ও পরদিন এখানকার সেতু, নদীপাড়ে ও ব্লক এলাকায় গিয়ে দেখা গেলো, পুরো এলাকায় যেন মানুষের ঢল নেমেছে। দুপুর গরিয়ে বিকেল হওয়ার সঙ্গেই বিনোদনপিয়াসী শত শত মানুষের পদচারণা ঘটে সেতু দুটিকে ঘিরে। ফলে সব বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এটি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত মির্জাপুরের এ সেতু ও সংলগ্ন এলাকায় কার্যত এখন এ অঞ্চলের মানুষের সিনেমা হল, পার্ক বা অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রের অভাব মেটাচ্ছে।

এক সময় মির্জাপুর সদরে দুটি, হাটুভাঙ্গা বাজারে একটি, পাকুল্যা বাজারে দুটি ও জামুর্কী বাজারে একটি সিনেমা হল ছিল। প্রতি বছর ঈদ ও দুর্গা পূজা ও অন্যান্য উৎসবে এসব সিনেমা হলগুলোতে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যেত। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে স্যাটেলাইট চ্যানেল চালু হওয়ার পর থেকে সিনেমা হলের সুদিন ফুরাতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে প্রায় এক যুগ আগে একে একে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে বড় উৎসবে মির্জাপুরে বিনোদনপিয়াসী মানুষ বিনোদন থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েন।

এদিকে, মানুষের দাবি ও উপযোগিতা থাকলেও মির্জাপুরে সরকারি, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বা বেসরকারি উদ্যোগে কোনো বিনোদনকেন্দ্র বা পার্কের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে ব্রিজ ও সড়ক তৈরি হওয়া পর মনের খোরাক মেটাতে বিনোদনপ্রেমীরা ধীরে ধীরে এখান আসতে শুরু করে। এভাবেই পরিচিতি পেতে পেতে বর্তমানে রীতিমতো পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে এ এলাকা।

ঈদের পরদিন সেতু এলাকায় দেখা মিললো একদল যুবকের। পিকআপে করে আসা দলটি উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে হৈ-হুল্লোড় ও আনন্দ করছেন। জানালেন, কোথাও বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধুরা পিকআপ ভাড়া করে সেতু এলাকায় সময় কাটাতে এসেছেন।

বংশাই নদীর সেতুতে ঘুরতে আসা মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী পোস্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা কিবরিয়া জানান, সাধারণ মানুষের কাছে জায়গাটি দিন-দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বংশাই সেতুর উত্তরপাশে চেয়ারম্যান বাজারের দোকানি এখানে প্রচুর মানুষের আগমনে খুশি। জানালেন, প্রতিদিন অনেক মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে আসেন। ঈদকে কেন্দ্র করে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রতিদিন শত শত মানুষের সমাগমে তার দোকানে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। সেতুর উত্তর দিকে নদীপাড় ভরাট করে দর্শনার্থীদের বসার জায়গা নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সাহাদৎ হোসেন সুমনের সঙ্গে। মোবাইল ফোনে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করার কথাও জানান তিনি।

জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত সাদমীন বলেন, আমি মির্জাপুরে কয়েক মাস আগে যোগদান করেছি। এখানে বিনোদনের জন্য কোনো ভাল জায়গা নেই। দ্রুত খাস জমি খুঁজে বিনোদন পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

এস এম এরশাদ/এসআর/জেআইএম