দেশজুড়ে

বন বিভাগের ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বাগেরহাটে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করেই সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে সরকারের প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

এ নিয়ে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বাগেরহাটের দশানী গ্রামের আনিছুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি।

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে গত জুন মাসে পাঁচ দিনে ২২টি চেকের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের এই টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে সামাজিক বন বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সকল কাজই বন বিভাগের ফরেস্টার রেঞ্জারসহ অন্য কর্মকর্তাদের তদারকির পর তাদের সুপারিশের পর চেক দেয়া হয়। সুতরাং ডালাওভাবে কাজ না করেই চেক দেয়ার বিষয় উল্লেখ করে যে অভিযোগ করেছেন তার সত্যতা কোথায়।

এদিকে, মাত্র একমাস আগে সামাজিক বনবিভাগের ডিএফও হিসেবে যোগদানকারী মো. সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২২টি চেকে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম ২৫ মে দায়িত্বভার গ্রহণ করে তার স্বাক্ষরে ১ জুন ১টি চেক, ১৪ জুন ৪টি চেক, ২০ জুন ১০টি চেক, ২৮ জুন ৪টি চেক ও ২৯ জুন ৩টি চেকের মাধ্যমে ঠিকাদারদের ৪ কোটি ১৯ লাখ ৬ হাজার ২৭৫ টাকা প্রদান করেছেন।

যেসকল কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে খোদ পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর নিজ জেলা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা পার্ক, কাউখালী ইকোপার্ক, শংকরপাশা বকুল ইকোপার্ক ও ৫টি উপকূলীয় জেলায় পুকুর খনন প্রকল্পও রয়েছে।

এসব প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এমনকি এর মধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি বলে আনিছুজ্জামান নামের ওই অভিযোগকারী লিখিতভাবে দরখাস্ত করেছেন।

এছাড়া ওই অভিযোগপত্রে মাত্র ১ মাসে সরকারি গাড়ির জ্বালানি তেল খরচ হিসাবে ২ লাখ উত্তোলনের পাশাপাশি চিন্ময় মধু নামের এক ফরেস্টারের মাধ্যমে ডিএফও বাংলাদেশের ৫টি উপকূলীয় জেলায় বনায়ন শীর্ষক প্রকল্পের বন সৃজন, চারা উত্তোলনসহ অন্যান্য খাতে অগ্রিম ২৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪ টাকা ব্যাংক থেকে তুলেছেন।

যেসব খাতে অগ্রিম টাকা উত্তোলন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, সুপারি চারা উত্তোলন- বাগান সৃজন, এক বছর বয়স্ক সুপারি চারা রক্ষণাবেক্ষণ- চারা পাহারা, নারকেল চারা উত্তোলন- নারকেল চারা রোপন, স্ট্রিপ বাগানের চারা উত্তোলন- স্ট্রিপ বাগান সৃজন, তাল চারা উত্তোলন, তাল বাগান সৃজন, খেজুর চারা উত্তোলন, খেজুর বাগান সৃজন, বাঁশ বাগান সৃজন, খাচাসহ শোভাবর্ধনকারী বাগান সৃজন।

অন্যান্য খাতের মধ্যে সাইনবোর্ড মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণ, কম্পিউটার মেরামত ও গাড়ির মালামাল ক্রয়। এভাবেই বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হযেছে।

বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো.সাইদুল ইসলাম বলেন, সামাজিক বন বিভাগে মাত্র এক মাস যোগ দিয়েছি। অফিসের সব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সচেষ্ট হলে একটি কুচক্রী মহল তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানি করতে অপ্রচার চালাচ্ছে। তারপরও যে চেকের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে তা তিনি ভালো করে খতিয়ে দেখবেন।

শওকত আলী বাবু/এএম/পিআর