পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে লঞ্চ অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় তিন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবদুল মালেক প্যাদা বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় অভিযুক্ত সংবাকর্মীরা হলেন জোবায়ের হোসেন, তাইমুন ইসলাম রায়হান ও জাবির হোসেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে আগামী ২৯ জুলাই প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গলাচিপার বোয়ালিয়া পানপট্টি খেয়াঘাট থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত স্টিল বডির খেয়ায় যাত্রী পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে ৩ বছরের অনুমোদন নিয়ে যাত্রী পারাপার করে আসছে।
গত ২৬ জুন সকাল ১১টার দিকে আমাদের এম এল আসিক ও এম এল হালিম-২ লঞ্চে আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ৬ জন লঞ্চে আরোহন করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
আসামিরা ছোরা ধরে খুনের ভয় দেখিয়ে জোর করে লঞ্চ থেকে নামিয়ে বাদীর কাছ থেকে লঞ্চের কালেকশন করা তিন হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং দাবিকৃত দুই লাখ টাকা চাঁদা না দিলে বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমোদিত রুটে লঞ্চ চালাতে দেবে না বলে হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি তাইমুন ইসলাম রায়হান বলেন, এই পথে এমনিতেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ২০ টাকা ভাড়া নেয়ার নিয়ম থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা করে। এদিকে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়লে ভাড়া আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি করা হয়েছে।
রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ওদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রীদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে তিন সাংবাদিক ছবি তোলায় লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা চলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আমি ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। ওই তিন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলাটি হয়রানি ছাড়া কিছু নয়।
রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সাগর-নদী বেষ্টিত এই রাঙ্গাবালী উপজেলা (দ্বীপ) থেকে জেলা শহরে যোগাযোগ করার একমাত্র মাধ্যম পানপট্টি-কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে এ উপজেলার মানুষ কতটা জিম্মি হয়ে আছে তা আমি এখানে চাকরি না করলে জানতে পারতাম না।
প্রসঙ্গত, পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া-পানপট্টি নদী পারাপারে নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ লঞ্চ ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করলেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৩০০ এবং সন্ধ্যার পরে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দ্বারা যাত্রী হয়রানি এবং একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান রাঙ্গাবালী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/পিআর