শহরসহ রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বাস করছে কয়েক লাখো মানুষ। এসব মানুষ বসবাস করে আসছে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাদদেশে।
গত ১৩ জুন পাহাড়ধসের ঘটনায় ঝুঁকি বেড়েছে ভয়াবহ রুপে। এরপরও ঝুঁকির মধ্যে বাস করছে অসংখ্য মানুষ। শুধু শহর এলাকায় ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে অন্তত ১০ হাজার পরিবার। প্রশাসনের নিরূপণ করা তালিকায় ঝুঁকির ভয়াবহ চিত্র ওঠে এসেছে।
এদিকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় রাঙামাটি ফের পাহাড়ধসের আশঙ্কা বাড়ছে। আতঙ্কে এলাকার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি রেখেছেন প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরসহ জেলাজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ করে লাখ লাখ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে আসছে। ১৩ জুন পাহাড়ধসের বিপর্যয়ে জেলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘরসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার পরিবার এবং প্রায় সোয়া লাখ মানুষ। সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭৬৮ বাড়িঘর। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগণ্য সংখ্যক মানুষ সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিলেও ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে অগণিত মানুষ।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ১৩ জুনের পাহাড়ধসে রাঙামাটিতে কমপক্ষে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক তালিকায় শুধু সরকারি স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন, গবাদি পশু, মৎস্য খামারসহ বিভিন্ন সম্পদের ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, পর্যটন এবং বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার স্থাপনা ও সম্পদ ক্ষতির হিসাব বিবরণী এ তালিকায় নেই। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক তালিকার তথ্যবিবরণী মতে, ১৩ জুন পাহাড়ধসে সদরসহ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১৮ হাজার ৫৫৮। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ১২৭ মানুষ। প্রাণহানি ঘটেছে ১২০ জনের। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩১ বাড়ি এবং আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৫৩৭টি বাড়ি।
প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা ক্ষয়ক্ষতির একটি খসড়া তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির এ হিসাব চূড়ান্ত নয়। যদিও প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা খসড়া এরমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিস্তারিত তথ্য আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত হিসাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে-কমতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা আবার সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানান, তার পৌরসভা এলাকায় সব মিলিয়ে ক্ষতি অন্তত ৪০০ কোটি টাকার।
রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা জানান, তার উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৩০০ কোটির অধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/আরআইপি